রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) অর্থ গ্রহণের দৃশ্য ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ইসরাফিল হাওলাদার, যিনি আদালত কার্যালয়ে এসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজ বুধবার তদন্ত কমিটির প্রধান ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, শীতকালের সময় আদালত কার্যালয়ে নিজ কক্ষে বসা এসআই ইসরাফিল হাওলাদারের কাছে এক ব্যক্তি জ্যাকেটের পকেট থেকে টাকা বের করে দিচ্ছেন। অর্থ গ্রহণের পর এসআই ওই ব্যক্তিকে হাত দিয়ে ইশারা করে কিছু দেখিয়ে দিচ্ছেন। পাশে উপস্থিত আরেক ব্যক্তি পুরো দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। একই সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক জানান, ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসার পরদিনই পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। তিনি আরও বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




