অরেগনভিত্তিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম/কেভেন আর্কিটেকচার দুই দশকের বেশি সময় ধরে শান্ত, কাঁচের দেয়ালঘেরা ঘর নকশার জন্য পরিচিতি অর্জন করেছে। এদের প্রকল্পগুলো এমনভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে মিশে যায় যে বাড়ি কোথায় শেষ আর প্রকৃতি কোথায় শুরু—তা বোঝাই দায়। কিন্তু প্রশ্ন ছিল, পোর্টল্যান্ডের একটি ব্যস্ত পাড়ার কোণায় অত্যন্ত সীমিত জায়গায় কি একই অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ড্যানিয়েল কেভেনের দলকে ভাবতে হয়েছিল অন্য কৌশল। জমির ক্ষুদ্র আয়তন ও কঠোর সেটব্যাক নীতির কারণে একমাত্র পথ ছিল উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। ফলশ্রুতিতে নির্মিত হয়েছে ‘স্কাইভিউ’ নামের চারতলা এই বাসভবন, যা রাস্তার স্তর থেকে চার তলা উঁচুতে উঠে গিয়েছে। কেভেনের ভাষায়, “ভবনটির স্তরায়িত ও ছিদ্রযুক্ত কাঠামো একে আশপাশের সঙ্গে সমন্বিত ও সাড়া দেওয়ার মতো করে তুলেছে।” মুখ্য সম্মুখভাগে কাঁচের দেয়ালের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বসানো হয়েছে টেরাকোটা ক্ল্যাডিং, যা বিশাল চেহারাকে ভেঙে ছোট ছোট ইউনিটে বিভক্ত করেছে। ভবনের গোড়ায় লাগানো প্ল্যান্টারগুলো খাড়া দেয়ালের কঠোরতা কমিয়ে রাস্তার স্তরে আরও মানবিক স্কেল তৈরি করেছে। নিচের তলায় রাখা হয়েছে কাজের জায়গা, তার ওপরে দুটি তলা জুড়ে শোবার ঘর। চতুর্থ তলাটি সম্পূর্ণ কাঁচের, যেখানে মূল বসার জায়গা ও রান্নাঘর রয়েছে। সেখান থেকে শহর, সেতু ও পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। ওপরে ওঠার জন্য লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেভেন জানান, তাঁরা এমন এক নগর মরূদ্যান তৈরি করতে চেয়েছিলেন যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ থাকবে। কোণায় কোণায় বসানো প্রত্যাহারযোগ্য কাঁচের দেয়াল খুলে দিলে বসার জায়গাটি আশপাশের বারান্দার সঙ্গে মিশে যায়। সেখানে আরও প্ল্যান্টার ও একটি অগভীর প্রতিফলন পুকুর ৩০ ফুট ওপরে বসেও উঠোনের অনুভূতি দেয়। আখরোট কাঠের প্রাচীর ও কেবিনেটরি ভেতরের অংশকে উষ্ণ করেছে। পাশের পার্কের গাছের চূড়া দেখা যায়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরও ঘনিষ্ঠ করে। মূল বাথরুমে ব্যবহারকারী দুটি অপশনের মধ্যে বেছে নিতে পারেন: নদীর পাথরের বিছানায় রাখা ফ্রি-স্ট্যান্ডিং টব, কিংবা সবুজে ঘেরা আউটডোর শাওয়ার। শেষেরটি ব্যবহার করলে মনে হবে আপনি শহরের মাঝে নন, বরং কোনো নির্জন প্রকৃতির কোণে আছেন।