কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কঠোর অবস্থান আরও জোরালো করল যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী মোট ৫৫টি জাহাজকে ফেরত পাঠিয়েছে, যা এই অঞ্চলে তাদের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কতটা গভীর তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সংকট চলছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এই অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

প্রণালিতে নিয়োজিত মার্কিন জাহাজগুলো কৌশলগত অবস্থান থেকে কনটেইনার, ট্যাংকারসহ বিভিন্ন ধরনের জাহাজকে থামিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। যেসব জাহাজের কাগজপত্র বা কার্গো সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে, সেগুলোকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এতে করে এই রুট দিয়ে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি। ফলে উত্তেজনা কমার বদলে বরং আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান এই সংকট সমাধানে উভয় পক্ষকে নমনীয় হতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনীয় এবং তারা নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো নিচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ও জ্বালানি আমদানিকারকরা এই অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সমাধানের তাগিদ দিয়েছে।

মূলত এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কতদিন এভাবে সীমিত থাকবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।