সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় গত শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এই নগরীতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব — এই তিন দেশ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত। তবে এই নতুন চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ওয়াশিংটন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ছিল বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই চুক্তির পূর্ণ প্রভাব এখনই স্পষ্ট নয়, তবে এর প্রভাব কয়েকটি স্তরে পড়তে পারে — যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলও অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই মনে করছেন, এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে এবং কয়েক দশকের মধ্যে অঞ্চলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

এমন এক সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের আগ্রাসী সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে — সেখানে বলা হয়েছে, জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলা চালানো হলে সেটিকে চুক্তিভুক্ত সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর চুক্তির আর্টিকেল-৫-এর মিল রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, এই তিন দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান অনাস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁদের ভাষ্য, মার্কিন প্রশাসনের অপ্রত্যাশিত ভূমিকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিবেশ তৈরি করেছে, তবে চুক্তিটি ওয়াশিংটনের কৌশলের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মিত্রদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের অনেকেই একমত হয়েছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে। এটি আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’ বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের সঙ্গে এই অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো। নিজের প্রথম মেয়াদ থেকেই এই নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন ট্রাম্প, যার ভিত্তি হলো আব্রাহাম চুক্তি। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়েছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তুসি মনে করেন, এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নেওয়ার আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। সেই সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে একীভূত করার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়াও তাদের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হলো, তিনটি শক্তিশালী মুসলিম দেশ নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বাড়াতে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে।

ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শুক্রবার একটি যৌথ বিবৃতিতে শুধু চুক্তির মূল অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে — কোনো সই করা দেশ আক্রান্ত হলে তা বাকি দেশগুলোর ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। তবে এই অঙ্গীকার এখনো বাস্তবে পরীক্ষিত হয়নি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে এই নতুন চুক্তি তৈরি হয়েছে। রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অন্য কোনো জোটের বিকল্প নয়, বরং বিদ্যমান জোটগুলোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হলেও তাদের নিজস্ব স্বার্থ আলাদা এবং কখনো কখনো এই স্বার্থগুলোর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, এই চুক্তির লক্ষ্য ‘কোনো সামরিক অক্ষ কিংবা সাম্প্রদায়িক-ধর্মীয় জোট’ গঠন করা নয় এবং এটি উপসাগরীয় অঞ্চল, আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের যোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এই চুক্তি ৩২ দেশের সামরিক জোট ন্যাটোতে তুরস্কের সদস্যপদের বিকল্প নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক জায়গায় সংঘাত বাড়লে সম্পদের বণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে।

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের মধ্যে তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি। সৌদি আরব তার বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে, আর পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার পারমাণবিক শক্তিমত্তা রয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য উপসাগর, ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে আমাদের জোটগত সম্পর্কের ভিত্তি একেবারে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে তা এখনই বলা কঠিন, তবে সম্পর্ক ভেঙে পড়েনি। এই বিষয়টি নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়া দরকার।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল মূলত সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পায়। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) প্রতিষ্ঠার পর এই কৌশল আরও জোরদার হয়। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার সময় নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রত্যাশা আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ১৯টি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা রয়েছেন। তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত ও মিসরকে ‘ন্যাটো-বহির্ভূত অন্যতম মিত্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়নবিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ ফেলো নওয়াফ ওবাইদ বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের এই চুক্তি ‘যুক্তরাষ্ট্রের নকশায় গড়ে ওঠা আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা’ থেকে সরে আসার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত। আল-জাজিরায় লেখা এক কলামে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে এই পরিবর্তন আরও দ্রুত হয়েছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এই দেশগুলো হামলার নিশানা হয়েছে এবং ইরানের পাল্টা হামলায় ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেও সম্পর্ক শিথিল হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের আমলে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে চীন ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে প্রকাশিত ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রেও মধ্যপ্রাচ্যকে খুব সামান্যই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নওয়াফের মতে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি কৌশলগত গুরুত্ব হারিয়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো আসলি আইদিনতাশবাসের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনেরও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মনোযোগ সরানোর ইচ্ছা আছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে পাঁচ মাস ধরে চেষ্টা চলছে, তা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তাই নিকট ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, ‘এখন মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যুদ্ধ চলছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বা সামরিক প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করার সময় নয়। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধসক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও দেখা গেছে। মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে তেহরান, এবং সামরিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থেকেও ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর ক্ষতি করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।’

আসলি এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তিন ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যে এমন একটি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে তুরস্ক বা পাকিস্তান সত্যিই হুতিদের কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তা গবেষণার জ্যেষ্ঠ ফেলো বুরচু ওজচেলিক বলেন, এই চুক্তিকে ‘যুক্তরাষ্ট্র-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের’ উদাহরণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না, বরং এটি আঞ্চলিকভাবে আরও বেশি দায়িত্ব ভাগাভাগির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না, তবে এর মধ্য দিয়ে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে এই অঞ্চলের দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি জোরালো নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ শিয়ার্স বলেন, সৌদি আরবের কাছে পারমাণবিক চুল্লি বিক্রির আলোচনা করছিল যুক্তরাষ্ট্র, পরে ট্রাম্প তাতে আব্রাহাম চুক্তিতে রিয়াদের যোগ দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেন। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ছিল এবং দেখা গেছে, আব্রাহাম চুক্তিকে এখন চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আসলির মতে, এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে না — এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।