বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা নৈতিকতাবহির্ভূত কার্যক্রমকে কখনোই সমর্থন করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
একই অধিবেশনে তথ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইনকে যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিক নিবন্ধন চালু, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশে আর্থিক জরিমানা এবং গুজব, ভুয়া খবর ও ঘৃণামূলক বক্তব্য মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে স্বতঃপ্রণোদিত তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও ডিজিটাল সম্প্রচারের বিকাশের কারণে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করছে সরকার। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন মাধ্যমের সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিমালা সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরিফা সুলতানার আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টের প্রচার ও প্রকাশ বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো তৈরির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী দেশের নিবন্ধিত পত্রিকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক ১ হাজার ২৩১টি, মাসিক ৪৫২টি, পাক্ষিক ২১৫টি এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৪।
অধিবেশনের শেষদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৮৪টি শিল্পনগরী বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এসব শিল্পনগরীতে ১৩ হাজার ৩৬৪টি শিল্পপ্লট রয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬৮৭টি প্লটে প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে, যেখানে ৬ হাজার ৩৫৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।




