চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য রেকর্ড পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছে। এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে।

এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এর আগে শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগে ভুল আছে কি না তা দেখা হতো; উত্তরপত্রের মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছিল, এমনকি উচ্চ আদালতে রিটও হয়েছিল।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ করতে গিয়ে চাপের মুখে পড়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি।

ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে; ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছে। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লায় ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। মাদ্রাসা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

গত বছর ঢাকা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৮৬ জন পরীক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পায় এবং ২৯৩ জন ফেল থেকে পাস করে। এবার পাসের হার কমে যাওয়ায় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর লাখ লাখ উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য মানসম্মত পরীক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, সেইসঙ্গে সময় কম থাকায় মূল্যায়নে তাড়াহুড়ো হয়। ফলে ভুলভ্রান্তির সুযোগ বেড়ে যায় এবং যথাযথ মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর মাশুল শেষ পর্যন্ত দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। তাই উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুলের সুযোগ কমাতে পরীক্ষক নির্বাচন, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও তদারকিতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।