শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহম্মবায়ক সাজিদ আহমেদ মোল্লাকে তার দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি আপত্তিকর কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগই এই অব্যাহতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে সাজিদ আহমেদ মোল্লার কথিত কিছু চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থীসহ কিশোরী মেয়েদের সম্পর্কে অশ্লীল ও আপত্তিকর মন্তব্য এবং ধর্ষণ সংক্রান্ত আলোচনা দেখা যায়। তিন থেকে চারটি ছবি দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হলে তা নিয়ে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জাতীয় ছাত্রছাত্রীর দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই অব্যাহতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাশিদ আবরারও বিষয়টি প্রমাণ করেছেন। অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাজিদ আহমেদ মোল্লা কেমিকৌশল ও পলিমারবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাবে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটটি সত্য হলেও এটি এক বছর পুরোনো এবং এই কথোপকথন তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে হয়েছিল। তিনি এও বলেছেন, ‘যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটি ছড়ানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব কোনো ঘটনার সম্পৃক্ততা নেই।’

সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়ে সাজিদ জানান, কর্তৃপক্ষ আগে বিষয়টি তদন্ত করবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছে। অন্যদিকে, শাবিপ্রবি প্রশাসনের বক্তব্য হলেও ঘটনাটি নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনও কারও পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে যার স্ক্রিনশট ছড়িয়েছে, সে মুঠোফোনে আমাকে ফোন করে নিরাপত্তা চেয়েছে। কোনো অভিযোগ এলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে।’