চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেছেন, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকার সবকিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করবে। তার মতে, একদিকে জনগণের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে, অন্যদিকে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে। সরকার যথাসময়ে এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের (২) উপ-ধারা অনুযায়ী পদত্যাগের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে বঙ্গভবন ছেড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি।

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, এ বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি আরও বলেন, কার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হবে এবং উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চসহ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি উঠতেই পারে। সরকার আইনগতভাবে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখবে দাবিগুলো কতটুকু যৌক্তিক।

মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৭৩(ক) ধারা সংযোজন করে আইন পাস করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করেনি, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা গুমের ঘটনাও ঘটেনি। যদি কারও কাছে এ ধরনের তথ্য থাকে তবে তা সরকারকে জানাতে বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এই বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিগত সরকারের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, যার সুফল দেশের মানুষ পায়নি। তার মতে, প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।