নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছর জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) আয়ের চেয়ে ব্যস্ত বেশি হয়েছে। রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন দলটির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপার আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা। অন্যদিকে ব্যয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৬৩ টাকা বেশি খরচ করেছে দলটি। এছাড়া ২০২৪ সালের শেষে দলের ব্যাংকে জমা ছিল ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা। ২০২৫ সালের ব্যস্ত শেষে সেই জমা দাঁড়িয়েছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকায়।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খরচ বেড়েছে। রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও জাপা রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনের বাইরে থাকবে না। দলের সমর্থিত প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং দল তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে।
সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিচারের দাবি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তিনি অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। তবে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তিনি সংবিধানবিরোধী কোনো কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন কি না, সেটি পরীক্ষা করা জরুরি। যদি তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে; অন্যথায় গ্রেপ্তারের দাবি তোলার কোনো যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাপায় ভাঙনের বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির অতিরিক্ত মহাসচিব বলেন, যারা দল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন। দলে ভাঙনের প্রভাব তৃণমূল পর্যায়ে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে দুই অংশের একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সাফল্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী জাপা নেতারা। দলটির হিসাব নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।




