জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশনে দলীয় কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে জুলাই পদযাত্রা শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত জায়গা; দলীয় লোক দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপি তাদের দলীয় লোক বসাচ্ছে এবং প্রশাসনকে পুরোপুরি দলদাসে পরিণত করছে। আখতার হোসেন বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণের অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমরা এমন দেশ চেয়েছিলাম যেখানে গণতন্ত্র থাকবে, সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার থাকবে। কিন্তু বিএনপি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপির প্রধান লক্ষ্যই হলো সংস্কার বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ।
পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক মাহমুদা মিতু বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, তারা ছাত্রদল ও যুবদলের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি। তিনি খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, দেশে যদি জনগণের সরকার আসে তাহলে সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। কিন্তু তারেক রহমান নিজের মায়ের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেননি। মাহমুদা মিতু প্রশ্ন তোলেন, ‘যে সন্তান নিজের মায়ের কথা রাখে না, সে কীভাবে দেশ চালাবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের নেতৃত্বে চলতে না চাইলে আপনার সন্তানকে রাজনীতিতে পাঠাতে হবে এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় গঠিত এনসিপির সাথে থাকতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, ঝিনাইদহ জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরেফিন কায়সার ও নাসির আল সামী। এর আগে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়ে পায়রা চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। পথসভায় শহীদ রাকিবের মা-বাবা ও শহীদ সাব্বিরের বাবা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জুলাই স্মৃতিতে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এনসিপি।




