গাজীপুরে একটি আবাসিক বহুতল ভবনের বারান্দার অত্যন্ত কাছে স্থাপিত ৩৩ কেভি ট্রান্সফরমার থেকে ছিটকে আসা স্পার্কে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে পাঁচ বছরের শিশু আহনাফ নিহান। টানা দশ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর, চিকিৎসকেরা তার বাঁ হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। পরিবারের অভিযোগ, বারবার নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও বাড়ির মালিক ও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহনাফ কাপাসিয়া উপজেলার উত্তরখামের গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে, যিনি গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। পরিবারসহ তিনি গাজীপুর মহানগরের উত্তর ছায়াবীথি শ্মশান মোড় এলাকায় সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার বিবরণে পরিবারের ভাষ্য, গত ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আহনাফ বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আম খাচ্ছিল। হঠাৎ বারান্দার পাশেই থাকা ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দে স্পার্ক ছিটকে পড়ে এবং মুহূর্তেই সে আগুনে দগ্ধ হয়। খাইরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর ধরে তারা ওই ভবনে বসবাস করছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে এসে তারা দেখতে পান, তাদের বারান্দার একেবারে সংলগ্ন নতুন একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে তাতে তিনটি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম ও ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে একাধিকবার জানান এবং বারান্দার পাশে সুরক্ষাপ্রাচীর বা কাচের নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণের অনুরোধ জানান। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। ট্রান্সফরমার থেকে স্পার্ক ছিটকে আহনাফের শরীরে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে আগুন ধরে যায় এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় আহনাফের দুই হাতসহ শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়। তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা দশ দিন চিকিৎসার পর গত মঙ্গলবার সংক্রমণ ও জটিলতার কারণে চিকিৎসকেরা তার বাঁ হাত কেটে ফেলেন। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ভবনসংলগ্ন ট্রান্সফরমারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তারা আবাসিক ভবনের এত কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার স্থাপনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে গাজীপুরে পল্লী বিদ্যুতের ছায়াবীথি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেছেন, নিয়ম মেনেই ওই স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম দাবি করেছেন, নিরাপত্তার বিষয়টি জানার পর তিনি ভবনের তত্ত্বাবধায়ককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন এবং খাইরুলকে অন্য একটি ফ্ল্যাটে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।
গাজীপুরে ট্রান্সফরমারের স্পার্কে দগ্ধ পাঁচ বছরের শিশুর হাত কাটা, পরিবারের অভিযোগ অবহেলার
গাজীপুরে বহুতল ভবনের বারান্দার পাশে থাকা ট্রান্সফরমার থেকে স্পার্ক ছিটকে দগ্ধ হয় পাঁচ বছরের আহনাফ। সংক্রমণ ও জটিলতায় চিকিৎসকরা তার বাঁ হাত কেটে ফেলেছেন। পরিবার বাড়ির মালিক ও বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার অভিযোগ এনেছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।




