বাংলাদেশে কোলোরেক্টাল তথা বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আশার কথা হলো, এই ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে সম্পূর্ণ নিরাময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চললে এই রোগের আশঙ্কা অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব।

স্ক্রিনিং একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি, যা কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই ক্যানসার শনাক্তে সহায়তা করে। কোলোরেক্টাল ক্যানসার সাধারণত ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং প্রায়শই সাধারণ পলিপ (অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড) দিয়ে শুরু হয়, যা সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এই পলিপগুলো আগেভাগে শনাক্ত করে অপসারণ করা সম্ভব, ফলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়।

কাদের জন্য স্ক্রিনিং বিশেষ জরুরি, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। যাদের পরিবারে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তারা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়া যাদের আগে কখনো পলিপ ধরা পড়েছে, বা যাদের ফ্যামিলিয়াল এডিনোসিস পলিপ ও লিঞ্চ সিনড্রোমের মতো বংশগত রোগ রয়েছে, তাদেরও নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো উচিত।

কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণের প্রতিও নজর দেওয়া জরুরি। যেমন—অকারণে ওজন কমে যাওয়া, মলদ্বার থেকে রক্তপাত, কারণ ছাড়া রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) এবং মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি বা যাদের এসব লক্ষণ রয়েছে, তাদের জন্য দ্রুত স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্রিনিংয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. ইসমাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক, কোলোরেক্টাল সার্জারি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিন ও টিউমার মার্কার সিইএ পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া মল পরীক্ষার মাধ্যমেও লুকানো রক্ত শনাক্ত করা যায়। প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে কোলনোস্কোপি করা হয়। এ পদ্ধতিতে একটি ক্যামেরাযুক্ত নমনীয় নলের মাধ্যমে পুরো বৃহদন্ত্র পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে পলিপ অপসারণও করা সম্ভব।

স্ক্রিনিংয়ের সময়সীমা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। গড় ঝুঁকির ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি ১০ বছরে একবার কোলনোস্কোপি করা যথেষ্ট। তবে মল পরীক্ষা বছরে একবার করানো যেতে পারে। কোলনোস্কোপি সাধারণত নিরাপদ হলেও খুব কম ক্ষেত্রে রক্তপাত বা অন্ত্রে ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে ঘরোয়া উপাদান ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমেই পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।