গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরে বুধবার দুপুরে দেখা যায় এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। পাঁচ বছরের এক শিশু তার কোলে একটি অসুস্থ খরগোশ নিয়ে বসে আছে। শিশুটির চোখে মুখে উদ্বেগ আর খরগোশটি নিশ্চুপ। শিশুটির নাম সিনথিয়া মনি। সে শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে নানা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে থাকে। দেড় বছর আগে নানা ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে একটি ছোট খরগোশছানা এনে দেন তাকে। সেই থেকেই ‘মন্টু’ নামের খরগোশটি সিনথিয়ার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। দিনের বেশির ভাগ সময় সে মন্টুর সঙ্গেই কাটায়। তবে কয়েকদিন ধরে খরগোশটি অসুস্থ, খাবারও খাচ্ছে না। সিনথিয়ার ধারণা, কেউ হয়তো মন্টুর কোমর ভেঙে দিয়েছে। নিজেও সে খাওয়াদাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তাই প্রাণপ্রিয় বন্ধুকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটেছে সে।
সিনথিয়ার সঙ্গে এসেছেন তার খালা জামিয়া আক্তার। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। কাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখেন ভাগনি খরগোশ কোলে নিয়ে বসে আছে, মন খারাপ। বাধ্য হয়ে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তিনি সিনথিয়াকে পশু হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। জামিয়া আক্তার জানান, জন্মের পরই প্রসবজনিত জটিলতায় মারা যান সিনথিয়ার মা। এরপর নানা-নানির কাছেই বড় হচ্ছে সে। নাতনিকে আনন্দ দিতে নানা পোষাপ্রাণী কিনে দেন। শুধু খরগোশ নয়, সিনথিয়ার একটি বিড়ালছানাও আছে, যার নাম ‘ঝন্টু’। এই দুই প্রাণীকে ঘিরেই শিশুটির নিত্যদিনের আনন্দ।
শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ সিনথিয়ার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে তাকে শান্ত করেন। এরপর কোলে থাকা খরগোশটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, খরগোশের কোমরে ব্যথা আছে, তবে হাড় ভেঙেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে করা প্রয়োজন। আপাতত ওষুধ দিয়ে দুই দিন অবস্থা দেখার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই তাদের কাছে পোষা বিড়াল, কুকুর, খরগোশের চিকিৎসা নিতে আসেন অনেকে। তবে কোনো শিশুর প্রাণীর প্রতি এমন গভীর মায়া দেখলে মনটা ভরে ওঠে। বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে পোষা প্রাণীর চিকিৎসার চাহিদাও বাড়ছে বলে তিনি জানান।


