রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার টাঙ্গন এলাকায় গত ২৫ জুলাই সড়কের পাশে একসঙ্গে ৩৫০টি পুরোনো জিও ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় ব্যক্তিদের সন্দেহ, নদী থেকে তোলা এই ব্যাগগুলো আবার বালু ভরে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ব্যাগগুলোতে উল্টো করে সেলাই এবং ছেঁড়া অংশ সারানোর চিহ্ন দেখে তাঁরা এমন ধারণা করছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৬ জুলাই এসব ব্যাগ জব্দ করেন। ধারণা করা হয়, ব্যাগগুলোতে আগে থেকে থাকা বালু সরিয়ে, সেগুলো মেরামত করে পুনরায় বালি ভরার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
অতিসম্প্রতি স্থানীয় বাড়িঘরে পুরোনো জিও ব্যাগের নানান ব্যবহার দেখা গেছে। চারঘাটের সাহাপুর গ্রামের মকবুল হোসেন তাঁর শৌচাগারের বেড়া হিসেবে আর পিরোজপুরের ফিরোজা বেগম গোয়াল ঘরে এই ব্যাগ ব্যবহার করছেন। তবে তাঁদের দাবি, নদীর পানি কমে যাওয়ার পর ফেলে রাখা ব্যাগ তাঁরা কুড়িয়ে এনেছেন।
ইউএনও কর্তৃক প্রেরিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাউনোর রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বিষয়টি খারিজ করে জানান, ৩৫০টি ব্যাগ যে জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটি তাদের প্রকল্প স্পট নয়। নতুন করে বালি ভরার জন্য পুরাতন ব্যাগ নেওয়া হতে পারে এমন স্থানীয়দের সন্দেহের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে তারা যথেষ্ট সতর্ক এবং তারা এটা হতে দেবেন না।
পাউনোর দেওয়া তথ্যমতে, চারঘাটের সাহাপুর ও পিরোজপুর এলাকায় কয়েকটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যযে ৪৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার প্রকল্প চলমান রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুরে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সাহাপুরে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজ চলছে, বাকি কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
জিও ব্যাগ ফেলার কাজোর তদারকির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম জানান, চুরির চেষ্টা হতে পারে ভেবেই তিনি নিজের লোক দিয়ে নজরদারি চালাচ্ছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যাগ জব্দ করার পর ওই দুই এলাকায় বৈঠক করে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ঠিকাদার অথবিব পাউবোর কোনো লোক সায় দিলেও পুরোনো ব্যাগ পুনরায় ব্যবহারের কোনরূপ সুযোগ দেওয়া হবে না।




