দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আজ সোমবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের এই দলটি দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছে।
প্রতিনিধিদলে থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট রাকেশ স্বামী, ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুচিত্রা কে এল্লা, দ্য ইনফ্রাভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি বিনায়ক চ্যাটার্জি, অরবিন্দ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরম শাহ, এলএমডব্লিউ গ্লোবালের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পি জে রাজেশ, মাহিন্দ্রা গ্রুপের আঞ্চলিক প্রধান রাজেশ গুপ্ত, গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টসের দক্ষিণ এশিয়া প্রধান কৃষ্ণা খাটোওয়ানি, ফোর্বস মার্শালের গ্রুপ হেড (ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস) দীপক শর্মা এবং অ্যাপোলো হসপিটালসের গ্রুপ হেড (ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস) এম এস গুরু প্রসাদ।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। আগামীকাল দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসবেন তারা।
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমুদ্র ও স্থলবন্দর ব্যবহারে ভারতের সাম্প্রতিক কিছু বিধিনিষেধের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি সূত্রের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ফলে বিশাল বাণিজ্যঘাটতির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি করলেও দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ সীমিত।
বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই ভারসাম্যহীনতা নিরসন এবং দুই দেশের বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




