হোয়াইট হাউসের কাউন্সেল পদে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার জানিয়েছেন, স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফ এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। একইসাথে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের (এনসিপিসি) প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে ট্রাম্পের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শার্ফ বর্তমান কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ওয়ারিংটন প্রশাসন ছেড়ে বেসরকারি খাতে যোগ দেবেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, শার্ফ পূর্বে ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন মামলায় তার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “উইল কঠোর, শক্তিশালী এবং স্মার্ট! সে আমাদের দেশকে ভালোবাসে এবং আইনকে সম্মান করে। উইল শার্ফ হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে অসাধারণ কাজ করবে!”

এই পদপরিবর্তনটি এমন এক সংকটপূর্ণ সময়ে ঘটছে যখন মিডটার্ম নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস বাকি। নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বরে সফল হলে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার অঙ্গীকার করেছে।

হোয়াইট হাউস কাউন্সেলের ভূমিকা হলো প্রেসিডেন্সি সংক্রান্ত আইনি ও নীতিগত প্রশ্নে পরামর্শ প্রদান। এই অফিসটি বিচার বিভাগের সাথে হোয়াইট হাউসের প্রধান যোগাযোগকারী হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা, বিচার বিভাগীয় নিয়োগ এবং আইন পর্যালোচনার দায়িত্বও এই অফিসের ওপর ন্যস্ত।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসনাল তদন্ত পরিচালনা এবং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও এই অফিসের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। অফিসিয়াল ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে তার প্রতিরক্ষাও এই অফিসই দেখে থাকে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প শার্ফকে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই কমিশনটি সরকারি ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার সম্পন্ন একটি নির্বাহী সংস্থা। গত এপ্রিলে এনসিপিসি ট্রাম্পের বলরুম প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়, তবে বিভক্ত ফেডারেল আপিল আদালত শুক্রবার রায় দেয় যে, কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্প এই রায়ের বিরুদ্ধে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রকল্পটি ইতিমধ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে এবং হোয়াইট হাউসের পূর্ব দিকে এর নির্মাণকাজ মাটির ওপরে উঠে এসেছে।