দেশব্যাপী হামের প্রকোপ ও প্রাণহানি ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১৬ দিনের ব্যবধানে হাম ও তার লক্ষণ নিয়ে মোট ৭৪৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ জন, আর বাকিরা হাম-সদৃশ উপসর্গে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে, যেখানে মৃতের সংখ্যা ৩৪০—এর মধ্যে ২৮৩ জন হামের লক্ষণ নিয়ে এবং ৫৭ জন নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর।

গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরো তিনটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে, তিনটিই ঢাকা জেলায়। একই সময়ে হাম নিশ্চিত হয়েছে ১০৬ জনের এবং সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিয়েছে ৭৯৬ জনের শরীরে। এই সময়ের মধ্যে ৭৪৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৪ জন ঢাকা বিভাগের। পরে রয়েছে চট্টগ্রাম (১৬২), বরিশাল (১১৫) এবং সিলেট (৬৪) বিভাগ। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭৮৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, মোট ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন; যার মধ্যে ৯১ হাজার ২৭০ জনকে ভর্তি হতে হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৭০ জনের। ৮৭ হাজার ৬২৮ জন ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন বলেন, হাম ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সরাসরি সংস্পর্শে তা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণের আট থেকে বারো দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়—উচ্চ জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া ও মুখের ভেতরে সাদা দাগ। এরপর মুখমণ্ডল থেকে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিরোধের উপায় হিসেবে তিনি সময়মতো টিকাদানের ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। এছাড়া হাত-মুখ পরিষ্কার রাখা, চোখে হাত না দেওয়া ও হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার পালন করা জরুরি। শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা রাখতে হবে এবং জ্বর-ফুসকুড়ির ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।