নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই টার্মিনাল নির্মাণের ঠিকা পেয়েছে নৌবাহিনীর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড। কোনো দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজটি দেওয়া হবে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে রাজধানীর যানজট কমাতে চারটি আন্তনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৫ জুন উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। সায়েদাবাদ ছাড়াও ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল নতুন স্থানে সরানো হবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল কাঁচপুর সেতুর কাছে, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান কেরানীগঞ্জে, মহাখালী অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে ও পরে টঙ্গীতে এবং গাবতলী সাভারের হেমায়েতপুরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাঁচপুর টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট ও অফিসকক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা তৈরি করা হবে। জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম ঢালাই ও টাইলস বসানো, ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট দিয়ে শেড নির্মাণ, ১২০টি টিকিট কাউন্টার ও ৩২টি টয়লেট বসানো হবে। গত ২৪ জুন ওই স্থান পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। তিনি সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, গাবতলী টার্মিনালের কাছাকাছি কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০ বিঘা জমি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। মহাখালী টার্মিনালের জন্য আশুলিয়ায় একটি জায়গা দেখা হয়েছে। গুলিস্তান টার্মিনালের জন্য কেরানীগঞ্জে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।’ স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি কাঁচপুর টার্মিনালের কাজ শেষ করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থনৈতিক কমিটির বৈঠকের পর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ৯টি উপকেন্দ্র আধুনিকায়নে ১৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব রয়েছে। যৌথভাবে এ কাজ পেয়েছে অ্যাডেক্স করপোরেশন ও অ্যাডেক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। এছাড়া পঞ্চগড়ের বোদায় পল্লী সড়কে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। চুক্তিমূল্য ১১০ কোটি থেকে বেড়ে ১১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে।




