বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া আবারও স্থগিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আবদুস সালাম আগামী ১০ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এর আগে গত ২৪ মেও একই কারণে শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ মো. নাজমুজ সাকিব জানিয়েছেন, বুধবারের শুনানি সম্ভব না হওয়ায় আদালত নতুন দিন ধার্য করেছেন। মূল বিচারক ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক এ সিদ্ধান্ত নেন।

এ মামলায় বর্তমানে কেবল শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতি নামের আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁকে বুধবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়; পরে শুনানি না হওয়ায় দুপুর ১২টার পর পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় হাজতখানায় ফেরত নেওয়া হয়। অন্য আসামিরা—সাবেক মন্ত্রী কামাল, তাঁর স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান এবং মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খান—বর্তমানে পলাতক বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। পরে তদন্ত শেষে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কামালসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন কামাল। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে তিনি ৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত হয়েছেন। এই অর্থ বা সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই মামলায় দুদক আইনের ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে অনুমোদনও হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে ধার্য করা হয়েছে।