বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির ফিফার উদ্যোগ এবার এশীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এএফসি-র কাছ থেকেও প্রত্যাখ্যান পেল। শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এএফসি জানায়, তারা ইউরোপীয় সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থা কনকাক্যাফের অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই নামের প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে সংস্থাটি।
যদিও ইউরোপের ৫৫টি দেশের জোট উয়েফা পরিকল্পনা প্রত্যাহারের দাবিতে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছে, এএফসি সরাসরি সেই পথে হাঁটেনি। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপ বর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা জনসমক্ষে আলোচিত হওয়ার স্তরে পৌঁছেছে, এটা সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়।’ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফুটবলের কখনই এমন অবস্থায় আসা উচিত ছিল না।
শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা, এএফসি সেসাবাপতি, সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে এক চিঠিতে প্রস্তাবটির উপস্থাপনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। শুক্রবারের বিবৃতিতেও এই সুর ধরে রেখে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক কাঠামোটি বাস্তবে প্রয়োজনীয় বিস্তৃত মতৈক্য গড়ে তুলতে পারবে না।
এএফসি সরাসরি কোনো নাম না করলেও তাদের বিবৃতির ইঙ্গিত ছিল ফিফা প্রেসিডেন্টের দিকে। তাদের মতে, এ বিতর্ক ফিফার অভ্যন্তরে পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার একটি ‘মৌলিক দুর্বলতা’ প্রকাশ করেছে, যার সমাধান জরুরি।
এদিকে, টানাপোড়েনের মধ্যে ফিফা আরও একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এফএফই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে শুক্রবার পদত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্র সকার ফেডারেশনের সাবেক এই কর্মকর্তা ও সাবেক ব্যাংকার বলেছেন, ফিফা যখন তার ‘সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ’ অংশীদারিত্ব বিক্রির কথা ভাবছে, তখন তিনি ‘চুপ করে বসে থাকতে পারবেন না’। কর্দেইরো তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট করেন, ‘এই প্রস্তাবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি।’
তিনি যুক্তি দেন, যে সংস্থা ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার রিজার্ভে বিলিয়ন ডলার মজুদ আছে এবং কোনো ঋণ নেই, সেই সংস্থার পক্ষে তার ‘মূল সম্পদের’ অংশ বিক্রি করে মাত্র ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলার কোনো যৌক্তিকতা দেখা যায় না। উয়েফা ও কনকাক্যাফের প্রত্যাখ্যান, এএফসির উদ্বেগ এবং এবার শীর্ষ উপদেষ্টার পদত্যাগ — সব মিলিয়ে ফিফার এই উচ্চাভিলাষী বাণিজ্যিক পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন বড় এক অনিশ্চয়তার মুখে।




