ফুটবল বিশ্বে নতুন এক তরুণ প্রতিভার আগমন ঘটেছে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। স্পেনের ক্লাব লেভান্তে থেকে ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার কার্লোস এস্পিকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি। গতকালই এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই দলবদল সম্পন্ন করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আগে থেকেই চলছিল। শেষ পর্যন্ত লেভান্তেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, রিয়াল তরুণ এই স্ট্রাইকারের ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করতে প্রস্তুত। এর পরপরই লেভান্তেও চুক্তিটি নিশ্চিত করে। লেভান্তের একাডেমি থেকে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড় এখন এস্পি।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিও এই সইয়ের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দলের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা থাকলেও, গঞ্জালো গার্সিয়াকে ফুলহামের কাছে ছাড়তে হচ্ছে। ফলে মরিনিওর পরিকল্পনায় একজন ‘নাম্বার নাইন’ ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন ছিল। এস্পি সেই শূন্যস্থান পূরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মার্ক কুকুরেয়া, ডেনজেল ডামফ্রিজ, বের্নার্দো সিলভা ও ইব্রাহিম কোনাতের পর এ মৌসুমে এটি রিয়ালের পঞ্চম সাইনিং।
কার্লোস এস্পির জন্ম স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ান কমিউনিটিতে। লেভান্তের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর ২০২৪ সালে ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক হয় তাঁর। তখন লেভান্তে দ্বিতীয় বিভাগে ছিল। সেই মৌসুমে ৩৬ ম্যাচে ৬ গোল করে দলকে লা লিগায় ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সব মিলিয়ে লেভান্তের হয়ে তিন মৌসুমে ৬৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল।
লা লিগায় ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত মৌসুমে লেভান্তের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন এস্পি। তাঁর অধিকাংশ গোলই এসেছে বেঞ্চ থেকে নেমে। অভিষেকের পর লা লিগায় মাত্র দুটি ম্যাচে একাদশের হয়ে খেলেছেন তিনি। অনূর্ধ্ব–১৯ ও অনূর্ধ্ব–২০ দলেও খেলেছেন তিনি স্পেনের হয়ে।
রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড আলভারো মোরাতার সঙ্গে এস্পির খেলার ধরনে মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। উচ্চতাও দুজনের প্রায় সমান—৬ ফুট ৩ ইঞ্চি। এই উচ্চতা কাজে লাগিয়ে হেডে গোল করতে বেশ দক্ষ তিনি। প্রতিপক্ষের বক্সে ‘পোচার’ ফরোয়ার্ডদের কাতারে তাঁর নামটা আসে। অপ্টার পরিসংখ্যান বলছে, লা লিগায় গত মৌসুমে ন্যূনতম ১০ গোল করা খেলোয়াড়দের মধ্যে হেডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৩৬.৪ শতাংশ) গোল করেছেন এস্পি।
রিয়াল কোচ মরিনিওর প্রতিপক্ষের বক্সে দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী সেন্টার-ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন পড়লে ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে কাজে আসবেন এস্পি। রিয়ালের সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোয় গঞ্জালো গার্সিয়া ও হোসেলুকে একইভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস ও এনদ্রিকের মতো ফরোয়ার্ডদের চেয়ে এস্পির খেলার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইউরোপের বড় কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ থাকলেও, রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের কথা জানার পর প্রিমিয়ার লিগের সব ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দেন এস্পি। মেডিক্যাল পরীক্ষার মুখোমুখি হতে আজই তাঁর মাদ্রিদে পৌঁছানোর কথা।




