চলমান বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের ত্রাস হয়ে উঠেছেন দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে। ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে এই জুটি যেন ডিসি কমিকসের ব্যাটম্যান ও রবিনের প্রতিচ্ছবি—যেখানে এমবাপ্পে মূল নায়ক আর ওলিসে তার নিঃস্বার্থ সহযোদ্ধা। সম্প্রতি সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পের জোড়া গোলের একটিতে এবং বারকোলার আরেক গোলে অবদান রেখে এই বোঝাপড়ার প্রকৃত প্রমাণ দিয়েছেন ওলিসে।
তাদের মধ্যেকার সমন্বয় যেন এক ধরনের ‘টেলিপ্যাথিক’ সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। অ্যাটাকিং থার্ডে পাসের মুহূর্তে কে কোথায় অবস্থান করবেন, বলটি ঠিক কতটা বাঁকালে তা সতীর্থর পায়ে পৌঁছবে—এই হিসেব দুজনের মাথায় যেন আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা। ফ্রান্স যখন আক্রমণে ওঠে, প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ প্রায় নিশ্চল হয়ে পড়ে তাদের থামানোর চেষ্টায়। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপ্পের করা ৬টি গোলের মধ্যে ৩টিরই কারিগর ওলিসে। শুধু গোল নয়, আক্রমণের সুযোগ তৈরি করার পাসের হিসাবেও এ দুজনের তুলনা এই আসরে নেই।
উসমান দেম্বলের নরওয়ের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকটা আলাদা ঘটনা হলেও, ফ্রান্সের আক্রমনের চিত্রনাট্য ধরা পড়েছে ওলিসের ডিফেন্সচেরা পেস আর এমবাপ্পের অভাবনীয় মুভে। গোল করানোর জন্য যেন ‘রসগোল্লা’র মতো সহজ পাস বাড়িয়ে দিচ্ছেন ওলিসে, আর সেগুলোর পূর্ণ সুবিধা নিচ্ছেন এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের খাটে তালিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অন্যদিকে ২৪ বছর বয়সী ওলিসের জন্য এটাই প্রথম বিশ্বকাপ, কিন্তু তিনি নিজের চরিত্রে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। দেশ ও ক্লাবের হয়ে চলতি মৌসুমে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৩২। সুইডেন ম্যাচেই প্রথম গোলটি করিয়েছিলেন একজন ডিফেন্ডারকে ‘নাটমেগ’ করার পর মাপা পাসে। পরে এমবাপ্পের গোলের জন্যও বক্সের ভেতর অসাধারণ এক পাস বাড়ান। তবে এখন পর্যন্ত সেরা মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয় সেনেগালের সাথে ম্যাচে ডান প্রান্তের থেকে বাঁকানো সেই পাসটি, যা এমবাপ্পের গোলে রূপ নেয়। এই একটি বোঝাপড়াই নিশ্চিত করে দিয়েছে, চলমান বিশ্বকাপে আক্রমণের সেরা জুটির তালিকায় তাদের জায়গা হবে।
কিংবদন্তি ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি ফক্স স্পোর্টসকে বলেছেন, মাঠের পরিস্থিতি ওলিসে যেভাবে দেখে ও বোঝে, তা সাধারণ খেলোয়াড়ের পক্ষে করা অসম্ভব। তার ভাষায়, কিলিয়ান এমবাপ্পে সবসময় সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় হবেন, তবে মাইর ওলিসে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফ্রান্সের হয়ে প্রথম চার ম্যাচে ৫টি গোলে সহায়তা করে ওলিসে ইতিমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার আগে এক আসরে ৫ অ্যাসিস্ট করেন মাত্র দুইজন—হাঙ্গেরির লাজলো বুদাই (১৯৫৪) ও ইতালির আমাদিও বিয়াভাতি (১৯৩৮)। সর্বশেষ ১৯৭৪ বিশ্বকাপে কোনো দলে একজন ন্যূনতম ৬ গোল ও অন্যজন ৫ অ্যাসিস্ট করার কীর্তি দেখা গিয়েছিল, যা এখন ফরাসি জুটি পুনরাবৃত্তি করছেন। এবারের আসরে এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল আর কারও নেই, আর ওলিসের চেয়ে বেশি গোলও বানাতে পারেননি অন্য কেউ।




