শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ইস্তফার আহ্বান জানিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের নানা প্রান্তে প্রতিবাদ প্রদর্শন করে চলেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার বরিশাল, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, রংপুর, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ১৩টি জেলায় একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে এবং যাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় পদত্যাগ করতে হবে।
বরিশালে দুপুরে নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায় শিক্ষা বোর্ডের সামনে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রায় দশ মিনিট অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি শুরু হলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ফিরে আসেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের অবস্থান সত্ত্বেও বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
রাজশাহীতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তালাইমারী মোড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও ইট ফেলে পথরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন এবং ঘোষণা দেন যে দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটা থেকে পুনরায় অবরোধ শুরু হবে। বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় এগারো হাজার পরীক্ষার্থী প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছিল এবং মুমূর্ষু রোগী বহনকারী গাড়িকে পথ দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়ায় মজমপুর রেলগেটের ট্রাফিক মোড়ে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা জড়ো হয়ে পৌনে দুইটায় মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং বিকেল পাঁচটায় সরে যান। কুষ্টিয়া সেন্ট্রাল কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম সিদ্দিকী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সব দাবি মেনে নিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ফয়সাল মাহমুদ জানান, সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে দুপুরে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এসে শেষ হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। বিকেলে থানায় একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, যেখানে ১৪ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ হামলা ও গালিগালাজের অভিযোগ তোলা হয়। নতুন শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা থানায় এসে কথা বলেছেন এবং একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের চৌমাথা মোড়ে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা সমবেত হন এবং মিছিল শেষে অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান দেন। সিরাজগঞ্জে ইলিয়ট সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।




