ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বর্তমান প্রশাসন উগ্রবাদ ও চরমপন্থার কোনো রূপই বরদাস্ত করবে না। তিনি বলেন, এই বিষয়ে সরকার বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা পাবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশে যাতে আর কখনও ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাংলাদেশ যাতে কোনো তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সেই লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকার ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করেছে। তিনি জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটানো হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এজন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সম্পদ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

অধিবেশন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অধিবেশনে মোট ২৬টি কার্যদিবস ছিল। গত ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে বাজেট পাস হয় ৩০ জুন। মোট ১০টি বিল পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য জমা পড়া ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্নের মধ্যে উত্তর দেওয়া হয় ৩ হাজার ৪৭৪টির।

দুর্নীতি দমন সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারি শাসনামলে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার করা হতো। সেই দুর্নীতি যে কোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে ফ্যাসিবাদী সরকার বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। শিক্ষাখাতেও নকল ও অটো প্রমোশনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান।

সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করেছে। ভবিষ্যতে এগুলোকে একীভূত করে একটি ইউনিভার্সেল কার্ড আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব সুবিধা জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের করুণা নয়, বরং দায়িত্ব।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে জুলাই সনদে সাক্ষর করেছিল। সেই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। একইভাবে বিএনপির ৩১ দফাও এখন জনগণের দাবি হিসেবে বিবেচিত।

পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রতিটি পরিবার এই মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, সংসদে মতভিন্নতা থাকবে, তবে শত্রুতা নয়; ন্যায়পরায়ণতাই মুখ্য। সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে নাগরিক জীবন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হবে।