দেশের উপকূলীয় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগ জোরদার করতে যুগ্মভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর। মঙ্গলবার সকালে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারি নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে ওই স্মারকে সই করেন।
স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধির মধ্যে সমন্বয় সাধন, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার বাধ্যতামূলক নিয়মাবলির সংশোধনী বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামুদ্রিক পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি, সমুদ্রে যেকোনো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে একে অপরকে সহায়তা করা, যৌথ সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত জরুরি মহড়া পরিচালনার বিষয়টিও চুক্তির আওতাভুক্ত।
এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ ও বিনিময়ের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করা নৌপরিবহন অধিদপ্তর মূলত জাহাজের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ থেকে সৃষ্ট দূষণ প্রতিরোধে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রশাসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে কোস্টগার্ড দেশের সামুদ্রিক অঞ্চলে আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যদিও প্রতিষ্ঠান দুটি আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এবং তাদের দায়িত্ব ও কাজের পরিধিও ভিন্ন, তবুও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সম্পর্ককে আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে একটি সুশৃঙ্খল সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাধ্যবাধকতা পূরণে নীতিমালা প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা, তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং সংকটকালীন সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই সকল ক্ষেত্রে দুই সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যপদ্ধতি হালনাগাদের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




