যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রস্তাবনা এক বিস্মৃত শিল্পকলার অভাবে জটিলতার মুখে পড়েছে—যার নাম প্রুফরিডিং বা বানান যাচাই। একটি অনুপস্থিত ‘এস’ (s) অক্ষর কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদন জমার বাধ্যবাধকতা কমানোর বিতর্কিত উদ্যোগকে ব্যাহত করার হুমকি সৃষ্টি করেছে।

গত মে মাসে এসইসি একটি নতুন নিয়ম প্রস্তাব করে, যার আওতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বর্তমান ত্রৈমাসিক ভিত্তির পরিবর্তে বছরে দুইবার তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করতে পারবে। সংস্থাটি এ বিষয়ে জনগণের মতামত চেয়ে rule-comment@sec.gov ঠিকানায় ফিডব্যাক পাঠাতে বলে। কিন্তু নির্দেশনা পাতায় এবং ২০১৯ সাল থেকে জারি করা প্রায় প্রতিটি নিয়ম প্রস্তাবনায় এসইসি যে মন্তব্য গ্রহণের ইমেল ঠিকানা ছাপিয়েছে, তা হলো rule-comments@sec.gov—অর্থাৎ ‘এস’ সহ বহুবচন।

অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত এই প্রস্তাবের ওপর মতামত প্রদানের সময়সীমা গত ৬ জুলাই শেষ হয়। কিন্তু অলাভজনক বিনিয়োগকারী অ্যাডভোকেট সংস্থা ‘বেটার মার্কেটস’-এর একটি চিঠিতে সোমবার এই ইমেল ঠিকানার বিভ্রান্তি নতুন করে সামনে আসে। কমিশনের চেয়ারম্যান পল অ্যাটকিন্স ও কমিশনার হেস্টার পিয়ার্স এবং মার্ক উয়েদার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বলা হয়, প্রকাশিত ইমেল ঠিকানাটি ‘ভুল’ এবং এই ত্রুটি নিঃসন্দেহে জনগণের একটি অংশকে করপোরেট প্রতিবেদনের অর্ধশতাব্দীর চর্চায় আমূল পরিবর্তন আনা এই ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী প্রস্তাব সম্পর্কে মতামত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

‘রুল-কমেন্ট’ বনাম ‘রুল-কমেন্টস’ ঠিকানায় কতোগুলো মন্তব্য পাঠানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে বেটার মার্কেটস বেশ কয়েকটি উদাহরণ উদ্ধৃত করেছে, যেখানে ব্যক্তিরা দাবি করেছেন যে ‘রুল-কমেন্ট’ ঠিকানায় পাঠানো ফিডব্যাক এসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি। ফরচুনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসইসি এই ইমেল ঠিকানার কোনো ত্রুটি আছে বলে অস্বীকার করেছে। এক মুখপাত্র ইমেইলে বলেন, “উভয় ইমেল ঠিকানাই বৈধ এবং এই প্রস্তাবের ওপর জনমত জমা দেওয়ার গৃহীত মাধ্যম।” তিনি জানান, সংস্থাটি প্রাপ্ত ‘বিপুল সংখ্যক মন্তব্য’ প্রকাশের কাজ করছে।

ফরচুনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এসইসির একটি নির্দিষ্ট ফিডব্যাক চ্যানেলের প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাত আছে। ২০২৬ সালে প্রস্তাবিত ৯টি নিয়মের মধ্যে সাতটিতেই ব্যবহারকারীদের ‘রুল-কমেন্টস’ ইমেল ঠিকানায় নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যতিক্রম দুটি হলো: অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনের প্রস্তাবটি এবং দ্বিতীয়টি উদীয়মান প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলোর জন্য আরও সুবিধা প্রদানের একটি নিয়ম। পরবর্তী ক্ষেত্রে, ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত সংস্করণে একবচনের ইমেল ঠিকানা দেওয়া হয়, যেখানে এসইসির অনলাইন সংস্করণে বহুবচন ব্যবহার করা হয়। এসইসি এ বিষয়ে আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

একটি টাইপোর ঘটনা বিব্রতকর, তবে এক্ষেত্রে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এসইসি নিজেই প্রতিটি বিনিয়োগকারীকে জানায় যে ইমেল বা অনলাইন সাবমিশন ফর্মের মাধ্যমে আসা সব মন্তব্য ‘এসইসির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হবে’। এর পেছনে শুধু সৌজন্য নয়, প্রশাসনিক পদ্ধতি আইন (এপিএ) নামক একটি আইন কাজ করে, যা সংস্থাগুলোর নিয়ম প্রণয়ন ও সংশোধনের পদ্ধতি নির্ধারণ করে। ঐতিহ্যগতভাবে, এসইসি প্রস্তাবের জবাবে প্রাপ্ত মন্তব্য প্রকাশ করে এবং চূড়ান্ত নিয়মে সেসব মন্তব্যের বিভিন্ন প্রতিপাদ্যে সাড়া দেয়। এপিএ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইন এই অনুশীলনগুলো নির্দেশ করে।

এসইসি চেয়ারম্যান অ্যাটকিন্স এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের ‘অনমনীয়তা কোম্পানি ও তাদের বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জন্য সঠিক সময় ব্যবধান নির্ধারণে বাধা দিয়েছে’। কিন্তু প্রকাশিত মন্তব্যের নিরিখে প্রস্তাবটি তেমন জোরালো সমর্থন পায়নি, অনেক সমালোচক যুক্তি দিয়েছেন যে এই পরিবর্তন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তথ্যের স্তর থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত করবে।

বেটার মার্কেটসের প্রধান নীতি কর্মকর্তা ও এসইসির সাবেক চিফ অব স্টাফ আমান্ডা ফিশার বলেন, প্রকাশিত মন্তব্যগুলোর পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রায় ৯৯ শতাংশই প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এক বিনিয়োগকারী অ্যাডভোকেটের কাছ থেকে শোনার এবং লিংকডইনে অন্যদের মন্তব্য জমা দিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে দেখার পর কমিশনকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেন। ফিশার বলেন, “বাইরের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করতে পারি না কী ঘটছে। কিন্তু মনে হচ্ছে এটি একটি টাইপো।”

বেটার মার্কেটস তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে ২০২১ ও ২০২২ সালে নিয়ম সংক্রান্ত মন্তব্য গ্রহণে একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ ছিল বলে সংস্থাটি স্বীকার করেছিল। সে সময় এসইসি মানি-মার্কেট ফান্ড ও শর্ট সেলারদের মতো বহুল প্রতীক্ষিত নিয়মসহ ১১টি নিয়ম ও একটি মন্তব্যের অনুরোধ পুনরায় খোলা হয়। ফিশার বিশ্বাস করেন, অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনের নিয়মের জবাবে এসইসি ৬৬ হাজারের বেশি মন্তব্য পাওয়ার তথ্য দিলেও প্রকৃত সংখ্যা ২ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

এই সমস্যা ও মন্তব্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে বেটার মার্কেটস এসইসিকে ফেডারেল রেজিস্টারে রেকর্ড সংশোধন, ২০২২ সালের মতো অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনের নিয়মটি পুনরায় চালু এবং জনগণকে সতর্ক করে একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি এসইসিকে মন্তব্যগুলো প্রকাশে ‘যা যা প্রয়োজন’ তা করার জন্যও অনুরোধ করেছে, যাতে মানুষ দুবার যাচাই করতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো না নিলে, “প্রশাসনিক পদ্ধতি আইনের আওতায় নিয়ম প্রণয়নের নথি অপূরণীয়ভাবে ত্রুটিপূর্ণ হবে এবং এই প্রস্তাব বিবেচনা বা গৃহীত করার যেকোনো প্রচেষ্টা অপ্রতিরোধ্য দুর্বলতায় ভুগবে।”

মূল প্রতিবেদনটি ফরচুন ডট কমে প্রকাশিত হয়েছিল।