মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (সিএআর) নিযুক্ত ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্যারিস। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই রাষ্ট্রদূত তার দাপ্তরিক বাসভবনে বহু নারীকে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের কারও কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হয়েছেন।
ব্রুনো ফুশের নামে ওঠা এই অভিযোগগুলো ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করার পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
একজন ফরাসি কূটনীতিক বিবিসিকে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা এখনও চলমান। তবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিধি বা এর সময়কাল সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে বিবিসি বাঙ্গিতে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাজধানী বাঙ্গিতে অবস্থিত তার সরকারি বাসভবনে প্রায় ৩০ জন নারীকে আমন্ত্রণ জানানোর অভিযোগ রয়েছে ফুশের বিরুদ্ধে। এসব নারীর মধ্যে কেউ কেউ রাতেও অবস্থান করেছেন বলে জানা গেছে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৬৫ বছর বয়সী ফুশের ২০২৩ সাল থেকে বাঙ্গিতে ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ফ্রান্স ও সিএআর তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছে, যা অতীতে বেশ চাপের মধ্যে ছিল।
চলতি বছরের মার্চ মাসে বাঙ্গি সফরে গিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো দুই দেশের মধ্যে "সম্পর্কের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের" প্রশংসা করেছিলেন। এই অবস্থায় রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিষয়টি এখন ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।




