চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের মুদ্রাবাজারে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৯ পয়সায়। কিছুদিন আগেও ডলারের দর বাড়তে দেখা গিয়েছিল, তবে সেই ধারা থেকে সরে এসে এখন পুনরায় দরপতন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হিসাব বলছে, শুধু ডলারই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন হওয়া অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতেও টাকার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুরি ডলার, ভারতীয় রুপি এবং জাপানি ইয়েন—সবগুলোর বিনিময় হারই কমেছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি খাতের পাশাপাশি রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতিতেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দর ঘোষণা করে, তার চেয়ে সামান্য বেশি দামে খোলাবাজারে ডলার ও অন্যান্য মুদ্রা বিক্রি হচ্ছে। মুদ্রাবাজারের এই ওঠানামা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সামগ্রিক খরচের উপর প্রভাব ফেলে। কয়েক মাস ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারণের জেরে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যার প্রভাব পড়েছিল স্থানীয় বাজারেও। আজকের এই দরপতন সেই অস্থিরতার কিছুটা প্রশমন ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দাম কমলেও খোলাবাজারে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ব্যাংক রেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই লেনদেন হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।