বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন মন্দির অডিটোরিয়ামে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার দেশে ধর্মীয় বিভাজন চায় না এবং সব ধর্মের, বর্ণের মানুষকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সব সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে আছে এবং তাদের সঙ্গে ঐক্য অটুট থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সব ধর্মের সেবকদের জন্য ভাতা প্রদান করছে যা আগের কোনো সরকার করেনি। পাশাপাশি, বিগত নির্বাচনে ইসকনের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে এবং সরকার তার উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরণে সচেষ্ট থাকবে।
এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি গোকুল ভি কে, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য দেবাশীষ রায় মধু এবং ইসকন বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস।
আলোচনা সভা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে রথযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে এই রথযাত্রা জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, রমনা কালীমন্দির, দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল, পলাশী মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে পৌঁছায়। উৎসবে বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশ নেন। আগামী ২৪ জুলাই বেলা তিনটায় একই পথে উল্টো রথযাত্রা ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে স্বামীবাগ আশ্রমে আসবে বলে আয়োজকরা জানান।


