সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদানের নীতি বহাল থাকছে। সম্প্রতি এই খরচ অর্ধেক করে ২৫ হাজার টাকা করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চিঠি বিনিময় হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে যে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে আগের নিয়মেই ৫০ হাজার টাকা হারে এই সুবিধা চালু থাকবে।
শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাই নয়, বরং বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারাও এই রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা পেয়ে আসছেন। গত ৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে এই খরচ কমানো যেতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই অর্থ বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি পাঠায়, যেখানে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাসের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের পর গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ আর্থিক সুবিধা পান, তা কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে।
তবে আজ অর্থ বিভাগের পাঠানো নতুন চিঠিতে এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। এদিকে আজ বেলা সাড়ে তিনটায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রাধিকারভুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পেয়ে থাকেন। গত ৯ জুলাই এই সুদমুক্ত ঋণ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে আগে যাঁরা ঋণ নিয়েছেন, তাঁরা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ৫০ হাজার টাকা পেতে থাকবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ ও বাজেট সীমাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



