পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি এ মামলায় ইসমাইল, বাবুল ও হাসান নামের আরও তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে বৃহস্পতিবার তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর পাশাপাশি আদালত ২৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩ আগস্ট মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগমের সাক্ষ্যের মাধ্যমে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনের পাকা রাস্তায় একদল দুর্বৃত্ত সোহাগকে পাথর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) ওসি মনিরুজ্জামান। তবে প্রমাণের অভাবে ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তদন্তে ত্রুটি থাকায় আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলে চলতি বছরের ১০ মে নতুন করে তদন্ত করে ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ। গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা করতেন। এ মামলায় মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস—এই ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন।
বাদী মঞ্জুয়ারা বেগম তার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তার ভাই সোহাগকে হত্যা করা হয়। মাহিন, টিটু, লম্বা মনির, ছোট মনির, সজিব, রাজীব, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, আলমগীর, অপু দাস, অভি, টিটন গাজী ও রবিনসহ অনেকে সোহাগকে পিটিয়ে ও ইট-পাথরের খণ্ড দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। এরপর সোহাগ মারা গেছে কি না তা নিশ্চিত করতে তার মরদেহের ওপর উঠে তারা উল্লাস করে বলে জানান তিনি।



