মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টানা নবম রাতের মতো মার্কিন বোমারু বিমানের গর্জন শোনা গেল। সোমবার ভোররাতে ইরানের ওপর নতুন করে আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার গভীর রাতে এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে নিশ্চিত করে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা শুরু করেছে। তাদের ভাষায়, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর আক্রমণে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের পর থেকে এ নিয়ে টানা নবম রাতের মতো মার্কিন বাহিনী হামলা চালাল।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য এই হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

এদিকে, ইরানের আগ্রাসনের মুখে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় কয়েকটি শত্রু ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের সামরিক বাহিনী জনসাধারণকে জানায়, বিস্ফোরণের কোনো শব্দ শুনতে পেলে সেটিকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বলে ধরে নিতে। একইসঙ্গে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা জানিয়েছে এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের কাছাকাছি কোনো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার দাবি করেছে, তারা ইরানের দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থিত সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে ‘শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে’ আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘শহীদ সেনাদের রক্তের প্রতিশোধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

রোববার ইরান জানিয়েছিল, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিমা হামলার জবাবে তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সেই হামলায় একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও বেশ কিছু পরিবহন ও অবকাঠামোগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জর্ডানও রোববার জানায়, তারা তাদের আকাশসীমায় বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।