বাংলাদেশের পোশাক খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পোল্যান্ডভিত্তিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এলপিপি। রাশিয়ার এফইএস রিটেইলের কাছে কয়েকজন রপ্তানিকারকের পাওনা নিয়ে জটিলতায় গত মাসে দেশে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে ১০ আগস্ট বিজিএমইএ ও এলপিপির যৌথ বিবৃতিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা জানানো হয়। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এলপিপি জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তারা এবং বর্তমানে দেশটির অষ্টম বৃহত্তম পোশাক ক্রেতা হিসেবে বছরে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি পোশাক ক্রয় করে থাকে।

এলপিপির দাবি, এফইএসের সঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা। বর্তমানে এফইএসের কাছে এলপিপির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা। তৃতীয় পক্ষের এই দায়ের কারণে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করবে না। সোর্সিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, নিজস্ব চুক্তি অনুযায়ী দায় পালন এবং স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে এলপিপি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এলপিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আমাদের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এফইএস-সংক্রান্ত ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি এবং খাতটিকে এগিয়ে নেওয়া স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাশিয়ার ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বকেয়া আদায়ে দুই বায়িং হাউসের মালিক গত মাসে এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর এলপিপির কর্মকর্তাদের বাসায় রাতে পুলিশ অভিযানও চালানো হয়।

এর আগে ২১ জুলাই এলপিপি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিজিবিএকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩১ জুলাই সরবরাহকারীদের পাঠানো চিঠিতে নতুন ক্রয়াদেশ ও পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিতের কথা জানানো হয়। পরে কয়েক দফা আলোচনার পর বিজিএমইএ ও এলপিপির মধ্যে সমঝোতা হয়। ১০ আগস্ট যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তৃতীয় পক্ষের বিরোধে এলপিপির সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি সরবরাহকারীর ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। এফইএস রিটেইলের দেনা পরিশোধে আইনিভাবে এলপিপি বাধ্য নয়, তবে প্রতিষ্ঠানটির দেনা পরিশোধে এলপিপি নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়।