গাড়ি বিক্রির ব্যবসায় মুনাফার পতনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিলারশিপগুলো এখন সার্ভিস খাতকে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তুলছে। মহামারীকালের অস্বাভাবিক সরবরাহ সংকটের সময় গাড়ি বিক্রিতে যে বিপুল লাভ হয়েছিল, তা এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে তালিকাভুক্ত ডিলারশিপগুলোর গড় করপূর্ব মুনাফা ছিল ১৯ লাখ ডলার; ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬৮ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এই অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ লাখ ডলারে, কেরিগান অ্যাডভাইজার্সের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে সিএনবিসি জানিয়েছে। সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কমে যাওয়ায় এবং বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্জিন সংকুচিত হয়েছে।

আগস্টের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার নতুন গাড়ি মজুত ছিল বলে কক্স অটোমোটিভের তথ্য জানাচ্ছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। বাজার এখন স্বাস্থ্যকর ভারসাম্যের দিকে এগোচ্ছে। মহামারীকালে সীমিত মজুতের কারণে ডিলাররা অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য নির্ধারণ করতে পেরেছিলেন, কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। তবুও গাড়ির দাম এখনো চড়া—জুলাইয়ের শেষে গড় তালিকামূল্য ছিল ৪৯ হাজার ২৪৯ ডলার এবং গড় লেনদেন মূল্য ৪৯ হাজার ৮৫৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১.৯ শতাংশ বেশি বলে কেলি ব্লু বুক জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ডিলারশিপগুলো সার্ভিস ও যন্ত্রাংশ বিক্রির দিকে ঝুঁকছে। জাতীয় অটোমোবাইল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ডিলারশিপগুলোর মোট সার্ভিস ও যন্ত্রাংশ বিক্রি ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গত বছর ১৬৪৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেল পরিবর্তন, ফিল্টার পরীক্ষা, টায়ার ঘোরানো ও হালকা মেরামতের মতো নিয়মিত সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

তবে স্বতন্ত্র সার্ভিস চেইনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডাকের কার্লাইলের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে ৪২ শতাংশ আমেরিকান জিফি লুব, মেইনেকে ও ওয়ালমার্টের মতো চেইনকে তাদের প্রধান সেবা প্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা ২০২০ সালের ২০ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই প্রবণতা ডিলারশিপগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ফ্রেডেরিক্সবার্গের পোহাঙ্কা নিসান হুন্দাই ডিলারশিপ গ্রুপের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা টিম পোহাঙ্কা ফর্চুনকে জানিয়েছেন, গাড়ি বিক্রির মূল ব্যবসায় সংকুচিত মার্জিনের কারণে সার্ভিস এখন “সবচেয়ে বড় সুযোগ” হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাঁর ডিলারশিপগুলো এখন সরাসরি প্রবেশের সুযোগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছে, সেবার জন্য অর্থায়নের বিকল্প রাখছে এবং প্রতিটি গাড়ির সার্ভিসের সময় ভিডিও মাধ্যমে পুরো যানবাহনের অবস্থা গ্রাহককে দেখাচ্ছে। কারখানায় প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান, বিশেষায়িত সরঞ্জাম ও নির্মাতা ডেটার বিশেষ অ্যাক্সেসের কারণে দামের পার্থক্য ন্যায্য বলে তারা যুক্তি দিচ্ছেন।

গাড়ি মালিকানার সময়কালও বাড়ছে। পরিবহন পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, গত বছর রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রী গাড়ির গড় বয়স ছিল ১৪.৫ বছর, যা এক দশক আগের ১১.৫ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে সার্ভিসের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, নিয়মিত সার্ভিস গ্রহণকারী গ্রাহকরা পরবর্তী গাড়ি কেনার সময়ও একই ডিলারশিপে ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি বলে পোহাঙ্কা মনে করেন।

উচ্চ গাড়ির দামের কারণে গ্রাহকরা ব্যয়বহুল ডিলারশিপ সার্ভিস থেকে দূরে সরে যেতে পারেন—এমন উদ্বেগও রয়েছে। তবুও ডিলাররা মনে করছেন, বিক্রয়-নির্ভর ব্যবসায়িক মডেল এখন ঝুঁকিপূর্ণ। পোহাঙ্কার ভাষায়, “আপনি যদি সার্ভিস শিল্পে যুক্ত না থাকেন এবং কেবল বিক্রয়ের ওপর নির্ভর করেন, তবে কোনো সমস্যা হলে আপনি নিজেকে সম্ভাব্য বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।” শুল্ক ও সরবরাহ শৃঙ্খলার বিঘ্নের মধ্যেও সার্ভিসকে পুনরাবৃত্তিমূলক আয়ের উৎস হিসেবে দেখছেন তারা, যা ব্যবসাকে স্থিতিশীল রাখবে।