জার্মানির অটোমোবাইল নির্মাতা ভক্সওয়াগেন তাদের পুনর্গঠন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কারখানা বন্ধের বিকল্প খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুমে। রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কারখানা বন্ধের চেয়ে আরও বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান বিদ্যমান। উল্ফসবুর্গভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় বাজারে খরচ কমানোর চাপে রয়েছে এবং লাভজনক চীনা বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি ভক্সওয়াগেন জানায়, গত তিন বছরের 'মৌলিক পুনর্বিন্যাস' এখন নতুন ধাপে পৌঁছেছে এবং তারা মডেল লাইনআপ অর্ধেক করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। ফলে খরচ কমানোর অন্যান্য উপায় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জার্মানির বেশ কয়েকটি কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ব্লুমে 'বিল্ড আম সন্টাগ' পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, জার্মানিতে একটি খরচ কমানোর কর্মসূচি ইতিমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। তিনি জানান, গত বছর একারনে জার্মানিতে কারখানার খরচ গড়ে ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা তিনি 'শক্তিশালী অগ্রগতি' হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে ভক্সওয়াগেনের পণ্য খুবই জনপ্রিয় হলেও সেগুলো থেকে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করা যাচ্ছে না। 'আমরা আমাদের পণ্য থেকে খুব কম অর্থ উপার্জন করছি,' তিনি বলেন। 'তাই আমাদের সব ধরনের খরচ কমিয়ে আনা চালিয়ে যেতে হবে।'

ব্লুমের মতে, ভক্সওয়াগেনের পণ্যের চাহিদা ভালো থাকলেও খরচ কমানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এবং মুনাফা বাড়াতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভক্সওয়াগেন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন কারখানা বন্ধ হবে বা হবে না সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে সিইওর এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে তারা বিকল্প পথ খুঁজছে।

ভক্সওয়াগেনের এই খরচ কমানোর উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল শিল্পের একটি বড় প্রবণতার অংশ। বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এই ধরনের পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে স্থানীয় নির্মাতাদের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতায় ভক্সওয়াগেনের অবস্থান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

সিইওর মন্তব্যে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খরচ কমানোর এই প্রক্রিয়ায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভক্সওয়াগেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে এবং যেখানে সম্ভব সেখানে স্বয়ংক্রিয়করণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।