যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্মল বিজনেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য প্রদানকারী একদল বিশেষজ্ঞ প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানব শ্রমিকদের বেকার করবে না; বরং যে সব ছোট প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করবে, তাদের প্রবৃদ্ধি এমন হবে যে শেষ পর্যন্ত তাদের আরও বেশি লোক নিয়োগ করতে হবে।

ইউএস চেম্বার অব কমার্সের টেকনোলজি এনগেজমেন্ট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্ডান ক্রেনশ' আইনপ্রণেতাদের জানান, ইতোমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছোট ব্যবসা বহুমুখী কাজে এআই ব্যবহার করছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশজুড়ে ২৩% ছোট প্রতিষ্ঠান জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করত, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪০% হয় এবং গত বছর তা আরও বেড়ে ৫৮%-এ দাঁড়ায়। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যেসব ছোট ব্যবসা এআই ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে, তাদের ৮২% গত এক বছরে তাদের কর্মীসংখ্যা বাড়িয়েছে।

ক্রেনশ'র ব্যাখ্যা, “এই ব্যবসাগুলো মানুষকে সরিয়ে দিতে এআই ব্যবহার করছে না। তারা এটি ব্যবহার করছে কর্মীদের সেই সব উচ্চমূল্যের কাজে মনোযোগী করে তুলতে, যেখানে বিচার-বিবেচনা, সৃজনশীলতা ও সম্পর্কের প্রয়োজন হয়।”

তাহলে একটি ছোট ব্যবসার এআই ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো উপায় কী? শিকাগোভিত্তিক মার্জ অ্যাপোথেকারি-র মালিক আনসার কাইয়ুম কমিটিকে জানিয়েছেন, তার কোম্পানি ভারী মাত্রায় এআই ব্যবহার শুরু করার পর থেকে কর্মীসংখ্যা ৫০ থেকে ২০% বাড়িয়ে ৬০-এ উন্নীত করেছে। কাইয়ুম বলেন, “আমরা এআইকে কিছু সরঞ্জামের সমষ্টি হিসেবে দেখি, যা আমাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও মানুষকে যুক্ত করতে সাহায্য করে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, বর্তমানে তারা একটি এআই এজেন্ট তৈরি করছেন, যা রুটিন হিসাব পরিশোধের কাজ সামলাবে। এই কাজটি সপ্তাহে একজন কর্মীর ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় নেয়, আর সেই সময়টুকু তারা কর্মীটিকে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির কৌশলগত সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে চান।

স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ও গ্ৰুমিং পণ্য বিক্রেতা মার্জ অ্যাপোথেকারি নগদ অর্থপ্রবাহের বিশ্লেষণ, মজুদ ট্র্যাক করা, বিনিয়োগের ওপর নজর রাখা, ব্যয় রেকর্ড করা, বেতন ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের কাজেও এআই সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে। “এবং আমরা এখনও লোক নিয়োগ করছি,” কাইয়ুম বলেন, “আমরা এখন এমন পর্যায়ে আছি যেখানে আমরা এমন কাউকে আনতে চাই যার এআই-তে আরও অভিজ্ঞতা আছে, কারণ আমরা সামনে এত সুযোগ দেখছি।” কাইয়ুম জোর দিয়ে বলেন, এআই একটি নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা, অন্যদিকে “মানুষই হলো আপনার টেকসই সুবিধা।”

ক্রেনশ' সতর্ক করে দিয়ে আরও জানান, কংগ্রেস যদি এআই নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় এবং বিষয়টি অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ছেড়ে দেয়, তবে তা জাতীয়ভাবে ব্যবসায়িক নিয়মের একটি ব্যয়বহুল “তাপ্পি” তৈরি করবে, যা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তিনি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের একটি সমীক্ষা উদ্ধৃত করেন, যার উপসংহার হলো, জাতীয় এআই ডেটা প্রাইভেসি বিধিমালা ছাড়া আগামী এক দশকে দেশটির প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হবে, যার ২০০ বিলিয়ন ডলার বহন করবে ছোট ব্যবসা সম্প্রদায়। তিনি বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অপেক্ষাকৃত নতুন আইন, ক্যালিফোর্নিয়া কনজিউমার প্রাইভেসি অ্যাক্ট-এর কথা উল্লেখ করেন, যেটি ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এআই সংক্রান্ত নিয়ম প্রণয়নের মধ্য দিয়ে গেছে। ক্রেনশ' বলেন, বর্তমান অনুমান অনুযায়ী, আইনটির এআই অংশ মেনে চলতে ছোট ব্যবসাগুলোর বাৎসরিক ১৬,০০০ ডলার খরচ হবে।

বিশেষজ্ঞরা আইনপ্রণেতাদের কাছে মূল বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন, এআই কখনোই সত্যিকারের মানবিক সক্ষমতাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, বরং শ্রমিকদের নতুন সরঞ্জাম দিয়ে আরও দক্ষ, উৎপাদনশীল ও পারদর্শী হয়ে ওঠার ক্ষমতা দেবে। তারা চারটি সুপারিশ করেন: কংগ্রেস যেন ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য এআই সাক্ষরতা প্রশিক্ষণে আরও তহবিল অনুমোদন করে এবং বর্তমানে ফেডারেল এআই বিধির অভাবে গড়ে ওঠা রাজ্যভিত্তিক তাপ্পির পরিবর্তে এআই মডেলগুলোর জন্য একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো স্থাপন করে।

মঙ্গলবার কমিটি কোনো নির্দিষ্ট বিল বা প্রস্তাবের ওপর কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, বেশ কয়েকজন হাউস সদস্য কংগ্রেসের জন্য এআই ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এআই সাক্ষরতা কর্মসূচিতে অর্থায়ন অনুমোদনের গুরুত্বে বিশ্বাস প্রকাশ করেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান ও কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইলিয়ামস শুনানির শুরুতে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ছোট ব্যবসা ও উদ্যোক্তা যাতে উদীয়মান এআই যুগে সফল হওয়ার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা।”