বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী মাইকেল বুরি সম্প্রতি স্পোর্টসবুক খাতের দিকে ঝুঁকেছেন। ড্রাফটকিংস এবং ফ্লাটার—এই দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে তিনি বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বুরির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্বাভাস বাজারগুলোর (প্রেডিকশন মার্কেট) ব্যাপক প্রসার স্পোর্টসবুক কোম্পানিগুলোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রতিযোগিতার ফলে ড্রাফটকিংস ও ফ্লাটারের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বুরির মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শেষ পর্যন্ত পূর্বাভাস বাজারের ওপর কড়া নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করবে। কারণ এই বাজারগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠায় ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টসবুক ব্যবসায়ীদের জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, নিয়ন্ত্রণ কঠোর হলে পূর্বাভাস বাজারের কার্যক্রম সীমিত হবে এবং স্পোর্টসবুক কোম্পানিগুলো আবারও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।
এই বিনিয়োগ কৌশলের পেছনে বুরির দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 'বিগ শর্ট' খ্যাত এই বিনিয়োগকারী সাধারণত বাজারের বিপরীতে বাজি ধরার জন্যই বেশি পরিচিত। তবে এবার তিনি স্পোর্টসবুক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। পূর্বাভাস বাজারগুলোর দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও তিনি মনে করেন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে ড্রাফটকিংস ও ফ্লাটারের মতো প্রতিষ্ঠানই লাভবান হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পূর্বাভাস বাজারগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রীড়া ইভেন্ট, রাজনৈতিক ফলাফল এমনকি অর্থনৈতিক সূচকের ওপরও বাজি ধরার সুযোগ দিচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মগুলো। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টসবুকগুলো কঠোর নিয়মের আওতায় পরিচালিত হয়। বুরি মনে করেন, নিয়ন্ত্রকরা শিগগিরই পূর্বাভাস বাজারগুলোকেও একই ছাতার তলায় আনার উদ্যোগ নেবেন, যার ফলে স্পোর্টসবুকগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ফিরে আসবে।
বিনিয়োগ মহলে বুরির এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার মতো অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর এই সিদ্ধান্ত ড্রাফটকিংস ও ফ্লাটারের শেয়ারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পূর্বাভাস বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, বুরির বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে নিয়ন্ত্রণই হতে পারে এই খাতের স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি।




