চুক্তিভিত্তিক কর্মরত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক — এই দুজনকেই সরকার আরও এক বছরের জন্য তাদের পদে বহাল রেখেছে। রোববার তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়, আর সোমবার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন এক বছরের মেয়াদ।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা হয়। ওই বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অসংখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয় এবং অনেকে বাধ্যতামূলক অবসরে যান। সেই সঙ্গে নতুন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতাও চোখে পড়ে, যা এখনো অব্যাহত।
গত দুই বছরে সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধান পদে একাধিক দফায় রদবদল হয়েছে। শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার যদিও কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছিল, পরবর্তী সময়ে সচিবসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সেই সরকারই। ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট একসঙ্গে ১৯৮২ ব্যাচের পাঁচজন সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের কয়েকজনের দপ্তরও বদলানো হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া তিন দিনের ব্যবধানে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। সেই সময় চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন তার চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা দুজনই বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা।




