রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্রিক প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট এই ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার উক্ত রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অন্য দুই জন সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মধ্যাহ্নে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিবহনে করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনাল ভবনে আনা হয়। এই সময় তার অনুগামী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর অনুজ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। আদালতের কামরায় আসামিকে হাজির করানো হলে রাষ্ট্রের কৌঁসুলি তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের অনুরোধ জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শ্রবণের পর ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাবাসে পাঠানোর আদেশ দেয়। ওই সময় কাদের সিদ্দিকী এজলাসকক্ষে মজুদ ছিলেন।

রায় দেওয়ার প্রাক্কালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে তার আইনজীবী আদালতে কিছু বলার অনুরোধ জানান। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তা প্রত্যাক্ষান করে। ফলে কাঠগড়ায় স্থাপিত ধ্বনি বিস্তারক যন্ত্র ব্যবহার করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, 'মহামান্য আদালত, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।' একই বাক্য একাধিকবার উচ্চারণ করলে ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন রাখে, 'কে কথা বলছে? তাঁকে কথা বলার জন্য কে অ্যালাউ করেছে। আজকের মতো এখানেই স্টপ।' এতে উত্তাল হয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, 'হায়রে হায় হায়। এই যদি হয় আদালত, আমি কোথায় যাই।' পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তার সামনে থেকে মাইক্রোফোনটি সড়িয়ে দেবার প্রয়াস পান।

ট্রাইব্যুনাল কক্ষ ত্যাগ করায় পুলিশ সদস্যরা লতিফ সিদ্দিকীকে আসন নিতে বললে তিনি ক্ষীণে বলেন, 'চুপ, আমি বসব কি দাঁড়াব, সেটা আমার ইচ্ছা।' এদিকে কাদের সিদ্দিকী লতিফ সিদ্দিকীর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালালে পুলিশ তার চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তখন আসামিপক্ষের অনুচরদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের বাচ্যুদ্ধ হয়।

এই মামলায় পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সমুদ ৪১ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের ভেতরে লতিফ সিদ্দিকী সহ ১১ জন বর্তমানে হাজতে অবস্থান করছেন। তার গ্রেপ্তারি ঘটনা ঘটে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার নিকটে। গুলশানের নিজ আবাস থেকে ডিবি তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে পূর্বেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী জুলাই গণ-উথানের পর গত বছর অগাস্ট মাসে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি আসর থেকে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন। পরে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করায় পুলিশ। কিছু মাস পর তিনি জামিনে ছাড়া পান। তবে ওই মামলাটি অদ্যাবধি সচল রয়েছে এবং তাকে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হতে হচ্ছে।