বিশ্বকাপ ফুটবলের চলমান আসরে আগামীকাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে তাদের শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ মিসরের কোচ হোসাম হাসান এখনো ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দুই গোলের অগ্রগামিতার পরও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে যায় মিসর। ওই ম্যাচের পরপরই রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন হোসাম।

মোস্তফা জিকোর দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল দেখিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিসরের পুরো বেঞ্চ রেফারিকে ঘিরে ফেলে। দ্রুত খেলা শুরু করতে অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা সেখানে ছুটে যান। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এই সময় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেখান হোসাম হাসান। বিষয়টি খেয়াল না করলেও অতিরিক্ত প্রতিবাদের জন্য তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। টেলিভিশনে দর্শকরা এই অঙ্গভঙ্গিকে বর্ণবাদ-বিরোধী অফিশিয়াল প্রটোকল বলে ধারণা করেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোসাম স্পষ্ট করেন, ‘আমার ইশারা বর্ণবাদ নিয়ে ছিল না। আমি রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে তিনি ন্যায়বিচার করছেন না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, শেষ দিকে তার দল দুটি পেনাল্টি থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।

ম্যাচ চলাকালীন মেসির সঙ্গেও ঘটে বাদানুবাদের ঘটনা। হোসামের ভাষ্য, পেনাল্টি বক্সের কাছে মেসি তার দিকে এগিয়ে এসে বারবার ‘কেন, কেন’ বলে প্রশ্ন করেন এবং আরও কিছু কথা বলেন। মেসিকে সাধারণত মাঠে এভাবে তর্কে জড়াতে দেখা যায় না। হোসাম মনে করেন, মেসি সেদিন মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন। একপর্যায়ে আবেগের বিস্ফোরণে কেঁদেও ফেলেন তিনি। মিসর টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানও মেসির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ‘মেসি ঠান্ডা মাথায় মাঠে নেমেছিল। কিন্তু যখন বুঝতে পারে রেফারি তাদের পক্ষে কাজ করছেন, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে এবং আমাদের উসকানি দিতে সে এগিয়ে আসে।’ হোসাম অবশ্য জানান, মেসির ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান রেখে তিনি কোনো বাদানুবাদে জড়াননি এবং তার কথার জবাব দেননি।

এই বিশ্বকাপ ছিল মিসরের জন্য স্মরণীয়। প্রথমবারের মতো তারা নকআউট পর্বে জয় পায় এবং দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পায়। হোসাম হাসানের দাবি, মিসর সেদিন আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন পরীক্ষা তৈরি করেছিল এবং তাদের কোণঠাসা করে ফেলেছিল। সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু মিসর কোচের ক্ষোভ ও মেসির প্রতিক্রিয়া ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।