মাত্র গতকালই তাঁর ১৯তম জন্মদিন পার করেছে লামিনে ইয়ামাল। এই বয়সে সাধারণত সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে দিন কাটানোর কথা থাকলেও, ইয়ামালের মন এখন পুরোপুরি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে নিবদ্ধ। ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে এই তরুণ তারকার নাম ঘিরেই স্পেনের আলোচনা সবচেয়ে বেশি। স্পেন এই আসরের সম্ভাব্য সবচেয়ে কম ব্যক্তিনির্ভর দল হলেও, ইয়ামালই এখানে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম।
ইয়ামাল ১৭ বছর বয়সেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন, বার্সেলোনার জার্সিতে তিনটি লা লিগা শিরোপাও উঠেছে তাঁর হাতে। কৈশোর পেরোনো এক প্রতিভার অর্জনের ঝুলি এতটাই ভারী যে, অনেক ফুটবলার পুরো ক্যারিয়ারেও তা ছুঁতে পারেন না। কিন্তু এই বিপুল সাফল্যই কি তাঁর কাঁধে প্রত্যাশার এমন এক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে, যা এই তরুণ কাঁধ বইতে পারছে না?
বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে এখন পর্যন্ত তাঁর অবদান সীমিত—সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে করা একমাত্র গোলটি। স্পেন পুরো আসরে ভালো ফুটবল খেললেও, তাদের আক্রমণভাগ এখনো পুরোপুরি ধারালো হয়ে ওঠেনি। এর পেছনে ইয়ামালের সেরা ফর্মে না থাকাটাই বড় কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জন্য দায়ী হতে পারে এপ্রিলে বার্সেলোনার হয়ে খেলতে গিয়ে পাওয়া চোট। সেই আঘাতের পর ইয়ামাল নিজেও ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপ যাত্রা হয়তো শেষ। গ্রুপ পর্বে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও তাঁকে খুব সাবধানে ব্যবহার করেছেন।
অপর একটি কারণ বয়সও হতে পারে। সতীর্থ রদ্রি যেমন মনে করিয়ে দিয়েছেন, “আমার মনে হয় ইয়ামালকে অস্থিরতা একটু কমাতে হবে। অনেক সময় সে দেখাতে চায় দলের জন্য সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” রদ্রির মতে, ইউরোর সময়েই ইয়ামাল যে পরিণতি দেখিয়েছিলেন, দুই বছর পর তা আরও বেশি করে প্রকাশ পাওয়ার কথা।
তবে দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপ এখনো আসল ইয়ামালকে দেখেনি এবং শিগগিরই সেটি দেখা যাবে। যদিও কোচ ও সতীর্থ উভয়েই আশা করবেন, এ ধরনের মন্তব্য যেন তরুণ তারকার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল না পেয়েও ম্যাচসেরা হওয়া ইয়ামাল নিজে গোল না পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি পরিষ্কার জানান, মাঠে নামলে শুধু গোলের কথা ভাবেন না; তাঁর কাজ দলকে সাহায্য করা, যা গোল ছাড়াও সম্ভব। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ জিততে পারলে কেউ গোলসংখ্যা মনে রাখবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালেও ফ্রান্সের বিপক্ষেই তিনি টুর্নামেন্টের নিজের একমাত্র গোলটি করেছিলেন। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না, তা নিয়েই এখন সকলের আগ্রহ। ফুটবল ইতিহাসে টিনএজারদের বিশ্বমঞ্চ কাঁপানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে—১৯৫৮ সালে ১৭ বছর বয়সী পেলে এবং ২০১৮ সালে ১৯ বছর ২০৭ দিন বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ামালের সামনে সুযোগ নিজের নামটিও সেই কিংবদন্তিদের পাশে স্থায়ীভাবে খোদাই করার।

