যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) জানিয়েছে, কেনিয়ার সাবেক ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) খেলোয়াড় ড্যানিয়েল অ্যাডংগোকে গত মাসে দেশটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রীড়াবিদ ইন্ডিয়ানাপোলিস কোল্টসের হয়ে লাইনব্যাকার হিসেবে দুই মৌসুম খেলেছেন। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা যায়, তার এনএফএল ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরবর্তী বছর ২০১৬ সালে তিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে আইসিই অ্যাডংগোকে 'বিপজ্জনক ব্যক্তি' হিসেবে চিহ্নিত করে জানায়, তাকে গত ২৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ২০ জুন দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে রাগবি খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত অ্যাডংগো তখন আলোচনায় আসেন যখন তিনি আমেরিকান ফুটবলে পা রাখেন, অথচ এই খেলায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
আইসিই'র শিকাগোর সহকারী ফিল্ড অফিস পরিচালক ডগলাস থম্পসন বলেন, 'যারা অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে তাদের সমানভাবে জবাবদিহি করতে হবে, প্রাক্তন পেশাদার ক্রীড়াবিদরাও এর ব্যতিক্রম নয়। এই বিপজ্জনক ব্যক্তি সম্প্রদায়ের জন্য স্পষ্ট হুমকি ছিল, এখন তাকে সরিয়ে দেওয়ায় এলাকা নিরাপদ হয়েছে।'
অ্যাডংগোর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি এবং তাকে কোথায় ফেরত পাঠানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। আইসিই'র বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ বছরে সাবেক এই খেলোয়াড় 'একাধিকবার' গ্রেফতার হয়েছেন ফেলনি ইনটিমিডেশন, ব্যাটারি ও ডিসঅর্ডারলি কন্ডাক্টের মতো অপরাধে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ানাপোলিস স্টার জানিয়েছে, এনএফএল-পরবর্তী জীবনে অ্যাডংগো মানসিক হাসপাতালেও সময় কাটিয়েছেন। তার মা ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিক অসুস্থতা এবং আঘাতের শিকার হয়েছিলেন, সম্ভবত ক্রীড়াজীবনের কারণে। ২০১৭ সালে ইনটিমিডেশন ও ক্রিমিনাল মিসচিফের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হলে আদালত তার মানসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়, বিচারের উপযুক্ত কিনা তা যাচাই করতে। তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। একাধিকবার মানসিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তার বিচার পিছিয়ে যায়।
২০২০ সালে 'ক্রিমিনাল মিসচিফ উইথ ড্যামেজ' অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাকে ৩৬৪ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, জানিয়েছে আইসিই। সংস্থাটি আরও জানায়, তার সর্বশেষ অভিযোগ লেকেন রাইলি আইনের আওতায় পড়ে, যেখানে চুরি বা সহিংস অপরাধে গ্রেফতার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলে রাখার বিধান রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পরপরই বিলটিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিলের নামকরণ করা হয়েছে লেকেন রাইলির নামে, যিনি জর্জিয়ার এক নার্সিং শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এক বছর আগে এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিকের হাতে নিহত হন।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আইসিই'র হাতে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি কেনিয়ান গ্রেফতার হয়েছে।




