জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবাদসভায় মন্তব্য করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভাগাভাগি ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে দলটির নেতা-কর্মীরাই একে অপরের চোখ উপড়ে ফেলবেন। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানার বাজারে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব বক্তব্য দেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘বর্তমানে এনসিপির ওপর আক্রমনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল-বিএনপির একটি অংশ নীরব থাকতে পারে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই যখন তাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই, পদের বণ্টন ও নির্বাচনী মনোনয়ন নিয়ে টানাটানি শুরু হবে, তখন আর বহির্দেশীয় কেউ নয়, বিএনপির লোকজনই তাদের নিজেদের দলের সদস্যদের চোখ তুলে নেবে।’
সম্প্রতি গত মঙ্গলবার হবিগঞিতে এনসিপির নেতা-কর্মীদের উপর বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার সময় দলটির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী চোখে মারাত্মক আঘাত পান। চিকিৎসকেরা অভিহিত করেছেন যে তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে এবং ডান চোখেও বর্তমানে তিনি ঝাপসা দেখছেন। বাম চোখে অস্ত্রোপচারের পর ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় সারজিস আলম বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি জানান, তার ডান চোখ খোলা থাকলেও দৃষ্টি অস্পষ্ট এবং তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না।
সারজিস আলম বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বলেন, “বিএনপির সমর্থকদের বিশাল অংশ সৎ হলেও, সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ লোক অফিসে অফিসে গিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া, থানাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চালানো, হাসপাতালের ওষুধ ও খাবারের টেন্ডার দখল এবং রাস্তার কাজের ঠিকাদারদের থেকে চাঁদাবাজির মতো অপরাধে লিপ্ত। এই গুটিকয়েক লোকের জন্য সাধারণ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা পায় না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া ব্যাহত হয় এবং সর্বত্র লুটপাট ও চাঁদাবাজি চলে।” তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন বাকি ৯৫ শতাংশ সমর্থক ওই ৫ শতাংশের অপকর্মের দায়ভার বহন করবে।
অনুষ্ঠানের আরেক বক্তা, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দেন যে, এবার আর কোনো উপদেষ্টা নিযুক্ত না করে তরুণ সম্প্রদায় নিজেরাই ক্ষমতায় গিয়ে দেশ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলীয় প্রতীকের অনুপস্থিতি একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং দলের সমর্থনের চেয়ে জনগণের সমর্থনই প্রকৃত শক্তি। তিনি আরও জানান, অতীতে যেভাবে তরুণেরা ডাকাত ঠেকিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই নেতৃত্ব দিয়ে তারা এই সমস্যার সমাধান করবে।
বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, যে দল দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও জুলুমের স্বীকার এবং যে দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের পাশে ছিল, সেই দল যদি পুনরায় স্বৈরাচারী হতে চায়, তবে তাদেরকে তা হতে দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, সেই দলের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা সাংসদ যেই হোক, সমালোচনার যোগ্য কোনো কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হবেই।
সভায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু। এদিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা এই অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য।




