সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ড এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে রেজিস্ট্রার সৈয়দ সলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিমকে আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ সলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরকে সদস্যসচিব করে ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, গণিত বিভাগের প্রধান আশরাফ উদ্দিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল ফজল মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি 'এশিয়া পোস্ট' পত্রিকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শাবিপ্রবির শিক্ষকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে বলা হয়েছে কমিটিকে। একইসঙ্গে, বিগত সরকারের আমলে শাবিপ্রবির কোনো শিক্ষক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন বা শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়গুলো।

সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে টেলিগ্রামে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে শাবিপ্রবির আওয়ামীপন্থী এক শিক্ষকের নামও উঠে আসে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় বলে মনে করা হচ্ছে।