বগুড়ার ছিলিমপুর এলাকায় শোকাবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী রামদয়াল সরকার (১৮) ও তার বাবা তাপস কুমার সরকার (৪৩)। আজ রোববার সকালে থেমে থাকা ট্রাককে আরেকটি ট্রাকের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হন। নিহত রামদয়াল শেরপুরের সামিট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং আজ তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার হলে যাওয়ার কথা ছিল তার, কিন্তু ঘটনার পর মরদেহ নিয়ে ফিরেছে তার বাড়িতে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাপস কুমার পরিবহন ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন এবং তার দুটি ট্রাকের একটি তিনি নিজেই চালাতেন। গতকাল শনিবার রাতে বগুড়ার ছিলিমপুর এলাকায় তার ট্রাকটি বিকল হয়ে যায়। ট্রাক মেরামতের জন্য ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে সেখানে যান রামদয়াল। সেখানে রাস্তার পাশে থেমে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আরেকটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলেসহ তিনজন নিহত হন।

শেরপুর পৌরসভার রামচন্দ্রপুর পাড়ার বাসিন্দা এই পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন রামদয়ালের মা দিপালী রানী সরকার (৩৫)। চেতনা ফিরে পেয়েই তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার আর কেউ রইল না।’ বাড়ির উঠোনে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। চারপাশে শোকের মাতম।

নির্বাক হয়ে বসে আছেন তাপসের বাবা আনন্দমোহন সরকার (৮০)। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মোড়দিয়া। নাতিকে ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্যই প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুরে এসেছিলাম। এখন ছেলেও নেই, নাতিও নেই। আমাকে দেখবে কে?’

তাপস কুমারের আত্মীয় সাগর কুমার রায় জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাবা-ছেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।