তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সস্তা উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত নন—এর বড় উদাহরণ হলো আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে বৃক্ষরোপণ করা হবে এবং সেজন্যই সারা দেশে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
রোববার সকালে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়; গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি শহর ও গ্রামীণ এলাকায় সবুজায়ন বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জহির উদ্দিন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমরা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করছি কীভাবে বৃষ্টি, রোদ, তাপ এবং পানির উচ্চতা দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশের যেসব উপকূলীয় অঞ্চল সাগরপারের বাসিন্দাদের আবাসস্থল, সেগুলো আগামী দিনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দেশ বা একটি অঞ্চলের পক্ষে একা এই সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মানুষ যদি জ্বালানি ব্যবহারে সচেতন না হয়, তাহলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে এবং একপর্যায়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল মানুষের বসবাসের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহারেও দায়িত্বশীল হতে হবে।
বন বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব প্রত্যেকের উপলব্ধি করা দরকার। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনকেও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্বোধন শেষে তথ্যমন্ত্রী বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নার্সারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রদর্শিত চারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ৫০টি নার্সারি অংশগ্রহণ করছে। সেখানে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে বলে জানানো হয়েছে।




