রাজধানীর উত্তরা রাজলক্ষ্মী মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী গয়নার বাজার। সীমিত জায়গার মধ্যে সারি সারি ছোট দোকানে মেলে নানা ধরনের অলংকার। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর থাকে এই স্থান। দোকানগুলোর সামনে ঝুলছে অক্সিডাইজ রুপার বড় ঝুমকা, ছোট স্টাড, মুক্তা বসানো ড্রপ ইয়াররিং এবং জ্যামিতিক নকশার মেটাল দুল। রয়েছে রঙিন পুঁতির মালা, টেরাকোটা পেনড্যান্ট ও সাদা পাথরের চোকার। ধাতব চুড়ির পাশাপাশি রেজিনের মোটা বালা, কাপড় মোড়ানো চুড়ি ও নানা ধরনের আংটিও পাওয়া যায়।

দামের দিক থেকে এই বাজারটি বেশ সাশ্রয়ী। অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে পরার জন্য উপযুক্ত গয়নার সেট পাওয়া যায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। রুপা ও অক্সিডাইজ ফিনিশিংয়ের এসব গয়নায় মিনাকারি, পাথর ও কৃত্রিম মুক্তার কাজ দেখা যায়। নানা ডিজাইনের মালা পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৬০০ টাকায়, যা শাড়ি বা পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। কানের দুলের দাম ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। ছোট টপ থেকে বড় ঝুমকা পর্যন্ত সবই মেলে। হালকা নকশার পাশাপাশি বড় পাথরের স্টেটমেন্ট দুলও রয়েছে, যেগুলোয় একাধিক রঙের পাথর বসানো। আংটির দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ব্রেসলেট পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। চুড়ির বেলায় কাচ, মেটাল বা অ্যান্টিকের চুড়ি ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় কেনা যায়। এক ডজন কাশ্মীরি চুড়ির দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, আর তাতে ঘুঙুর যোগ করলে বাড়তি ১৫০ টাকা খরচ হয়।

দোকানগুলো পাশাপাশি হওয়ায় ক্রেতারা একবারে কেনার বদলে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখেন, তুলনা করেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেন। কেউ কানে দুল ধরে আয়নায় মিলিয়ে দেখছেন, কেউ আবার শাড়ির সঙ্গে মানাবে কি না তা ভাবছেন। বিক্রেতারাও ধৈর্য ধরে পণ্য দেখান এবং মাঝেমধ্যে নতুন ডিজাইন এগিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা এখন খুব চলে।’ বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মিথিলা বন্ধুর সঙ্গে এসেছেন। হাতে কয়েক জোড়া দুল নিয়ে তিনি জানান, ‘এক জায়গায় এত অপশন, তাই আগে দেখে নিচ্ছি। আগে দেখা যেত পছন্দ হলেই কিনে ফেলতাম, কিন্তু এখন একটু মিলিয়ে দেখি।’ তাঁর বন্ধু আদৃতা যোগ করেন, ‘অনেক সময় এমনও হয়েছে, প্রথম দোকানির চাওয়া দামের অর্ধেকে গয়না কিনেছি। তাই গয়না বুঝে দরদাম করা জরুরি। কারণ, একই জিনিস আরও কম দামে কেনা সম্ভব।’ গত বছর থেকে এখানে দোকান চালাচ্ছেন রাকিব হাসান। তিনি বলেন, ‘ভিড় আছে, কিন্তু আগের মতো হুট করে কেনে কম। বেশির ভাগই দেখে যায়, তারপর ঘুরে এসে নেয়।’

এই বাজারের ক্রেতাদের বড় একটি অংশ তরুণী। চলতি ধারার নকশা ও তুলনামূলক কম দাম—এই দুই কারণে তাঁদের আগ্রহ বেশি। অনেকে দুল, হার ও বালা মিলিয়ে সেট হিসেবে কিনছেন। আবার কেউ কেউ শুধু নতুন কী এসেছে তা দেখতেই আসেন। জায়গা ছোট হওয়ায় বিকেলের দিকে ভিড়টা একটু বেশি বোঝা যায়। তবু সেই ভিড়ের মধ্যেই চলে বাছাই, দরদাম ও নিজের মতো করে কিছু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা।