দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, পাঁচ দশকের পথচলায় বিদেশি ঋণ ও অর্থসাহায্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসাই এখন সময়ের প্রধান দাবি। বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) অর্থনীতি সংসদ আয়োজিত এক সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অভিমুখ নিয়ে বক্তৃতা করার সময় তিনি এসব পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, নিজস্ব সম্পদ গঠনের ওপর জোর দিতে গেলে তৈরি পোশাক খাতকে সম্পূর্ণভাবে আত্মোপজীবী করে তোলা জরুরি, পাশাপাশি পণ্য রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নির্দ্ধিধায় দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতীয় অধ্যাপক আরও ইঙ্গিত দেন, কর ও জিডিপির অনুপাত বাড়ানো না গেলেও তার পেছনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অদক্ষতা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রের সিংহভাগ সম্পদ বিদ্যমান ঋণের সুদ পরিশোধে খরচ হয়ে যাওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন কঠিনতর হয়ে পড়েছে। অতীত সরকারের সময়ে গৃহীত বড় আকারের প্রকল্পগুলোর ব্যাপক ব্যয়ই বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী বলে মত দেন মাহবুব উল্লাহ।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন বিইউবিটি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মাহবুব আলী। তাঁর উপস্থাপনায় বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব উল্লিখিত হয়। শক্তি খাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বেসরকারি হাতে তুলে দেয়া পরিহার করাই উত্তম, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি রক্ষা পায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজনেস ও ইকোনমিকস অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। তাঁর ভাষায়, বাজেট-উত্তর একটি সার্বিক বিশ্লেষণই পারে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী অগ্রযাত্রায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও নীতিগত অভিমত সরবরাহ করতে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান সভাপতির আসন থেকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ধরনের তাত্ত্বিক চর্চা তরুণ প্রজন্মকে অর্থনীতির জটিল বিষয়ের প্রতি কৌতূহলী করে তোলে, যা জাতির স্থায়ী সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
অন্যান্যদের মধ্যে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারেক ইমাম জাহিদ ও মো. রাকিবুল ইসলাম, এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন মুন্সী মাহবুবুর রহমান।




