গারিঞ্চা, পেলে, রোনালদিনিওর মতো কিংবদন্তিদের দেশ ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাস ড্রিবলিংয়ের জন্য বিখ্যাত হলেও চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রীড়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণী প্ল্যাটফর্ম অপ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের আসরে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের মধ্যে ড্রিবলিংয়ে সবচেয়ে কম সাফল্যের হার ব্রাজিলের।

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল মোট ৫৯টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করে মাত্র ২০ বার সফল হয়েছে, যার সাফল্যের হার ৩৪ শতাংশ। দলটির পক্ষে সবচেয়ে সফল ড্রিবলার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি সাতবার সফল হন। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একাই পাঁচবার সফল ড্রিবলিং করেন তিনি।

ড্রিবলিং প্রচেষ্টার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মরক্কো (৭৬ বার)। তাদের পরেই রয়েছে আলজেরিয়া (৭৫) ও আইভরিকোস্ট (৭০)। সাফল্যের হারের বিচারে শীর্ষে ক্রোয়েশিয়া, যাদের ৩৪টি প্রচেষ্টার মধ্যে ২৩টিই সফল হয়েছে, অর্থাৎ সাফল্যের হার ৬৮ শতাংশ। তবে মোট সফল ড্রিবলিংয়ের সংখ্যায় এগিয়ে আইভরিকোস্ট, যারা ৪২টি সফল ড্রিবলিং করেছে।

ট্যাকলের ক্ষেত্রে নবাগত কেপ ভার্দে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তাদের ট্যাকল সাফল্যের হার ৭৮ শতাংশ, যা তাদের নকআউট পর্বে তুলতে সাহায্য করেছে। এরপরেই রয়েছে ইংল্যান্ড (৭৬%) ও স্পেন (৭৫%)। অন্যদিকে, ট্যাকল সাফল্যের হারে সবার নিচে কলম্বিয়া (৪৯%)। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ৫৮টি ট্যাকলের চেষ্টা করলেও তার প্রায় অর্ধেকই (৪৬.৬%) ছিল ফাউল। আর্জেন্টিনার চিত্রও প্রায় একই রকম, তারা ৬২টি ট্যাকলের চেষ্টা করে ৩৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই ফাউল করেছে।

এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ৭২ ম্যাচে মোট ২১৫টি গোল হয়েছে, যার ২৫ শতাংশই এসেছে সেট পিস থেকে। ম্যাচপ্রতি গড় গোলের হার ২.৯, যা কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গড় ২.৫-কে ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স ১০টি করে গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা দল। একমাত্র পানামাই গ্রুপ পর্বে কোনো গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে।