বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার ভোরে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৫টায় শুরু হবে। সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি থাকবে দুই দলের সবচেয়ে বড় দুই তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচের ওপর।

দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে পর্তুগাল, সাতটিতে জয় পেয়েছে তারা এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০২৪ সালের জুনে প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে লুকা মদ্রিচ ও আন্তে বুদিমির গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগালের একমাত্র গোলটি করেছিলেন দিয়োগো জটা। পরের বছরের জুলাইয়ে স্পেনে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান এই ফরোয়ার্ড।

সবশেষ ছয়টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পর্তুগাল অপরাজিত ছিল। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় ও একটিতে ড্র করেছে তারা। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ৯ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছিল (ছয় জয়, দুই ড্র)। কিন্তু সবশেষ তিন ম্যাচে কোনো জয় পায়নি তারা (এক ড্র, দুই হার)। এই অবস্থার শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-২ গোলে হার দিয়ে। এরপর ২০২২ সালের গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র এবং চলতি বছর প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হয় ক্রোয়েশিয়া।

এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে। আগের তিনবার (১৯৯৮, ২০১৮ ও ২০২২) প্রতিটিতে প্রথম ধাপ পার হয়েছিল তারা।

চলতি আসরে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে দুটি গোল করেছিলেন এবং বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ, ইউরো) পর্তুগালের হয়ে ১০ ম্যাচের গোল খরা কাটান। তবে দলের অন্য দুই ম্যাচে তিনি গোল করতে পারেননি। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ এবং কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পর্তুগাল। পাঁচবারের ব্যালন দ'র জয়ী এই তারকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আট ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। এই সময়ে গোলের জন্য তিনি শট নিয়েছেন ২৯টি, যা ১৯৬৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে নকআউটে গোল না করে কোনো খেলোয়াড়ের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তাঁর সঙ্গে যৌথ অবস্থানে আছেন ব্রাজিলের রবের্তো কার্লোস।

পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নামলে বিশ্বকাপে ৪০ বছর বয়সী মদ্রিচের ২৩তম ম্যাচ হবে এটি। এতে প্রতিযোগিতাটিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় পাওলো মালদিনি ও মানুয়েল নয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নেবেন ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক। এই তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা (২৪), ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (এই ম্যাচটি হবে তাঁর ২৫তম), লোথার মাথাউস (২৫) ও লিওনেল মেসি (২৯)।

রোনালদো ও মদ্রিচ দুজনই মাঠে নামলে, ৪০ বা এর বেশি বয়সী দুজন আউটফিল্ড খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবেন। বিশ্বকাপের আগে ৪০ বছরে পা দেওয়ার পর আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন কেবল ক্যামেরুনের রজার মিলা। ১৯৯৪ সালে গ্রুপ পর্বে রাশিয়ার বিপক্ষে তিনি মাঠে নেমেছিলেন ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে। তার চেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলেছেন কেবল দুজন এবং দুজনই গোলকিপার। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে শেষ বত্রিশে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪০ বছর ১০৬ দিন বয়সে মাঠে নামেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এদিন জেকো। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে খেলা ৪০ বা এর বেশি বছর বয়সী প্রথম আউটফিল্ড খেলোয়াড় তিনি। সেই তালিকায় এবার যোগ হতে পারেন সাবেক দুই রেয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ রোনালদো ও মদ্রিচ।